Advertisement

Election 2026: মোদী ঝড়ে বিদায়ের পথে মমতা-স্ট্যালিনের সরকার, INDIA ব্লকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচটি রাজ্যের গণনার ফল আসছে এক এক করে। এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে রাজনৈতিক চিত্রটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে পড়ছে বলে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। অসমে বিজেপি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছে।

স্ট্যালিন-মমতাস্ট্যালিন-মমতা
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 04 May 2026,
  • अपडेटेड 2:12 PM IST

বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচটি রাজ্যের গণনার ফল আসছে এক এক করে। এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে রাজনৈতিক চিত্রটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে পড়ছে বলে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। অসমে বিজেপি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঐক্যের শপথ নেওয়া বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মাঝ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে, যাদের বিরোধী ঐক্যের দুটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হত, সেখানকার রাজনৈতিক হাওয়া পাল্টে গেছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন 'ইন্ডিয়া ব্লক' ২০২৪ সালে বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বঞ্চিত রাখতে সফল হয়েছিল। কিন্তু এখন, দু'বছর পর, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিজেপি বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বিরোধীদের সমস্ত আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে বিরোধীরা দ্বিতীয়বার ধাক্কা খেল। স্ট্যালিন পরাজিত হয়েছেন।

স্ট্যালিনের দুর্গে আঘাত হানলেন 'থলপথি বিজত'
তামিলনাড়ুর দ্রাবিড়ীয় রাজনীতির কয়েক দশক পুরনো (ডিএমকে বনাম এআইএডিএমকে) কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনী ট্রেন্ডে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যে নামটি উঠে এসেছে, তা হল অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয। তাঁর দল, তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। এম কে স্ট্যালিন বিরোধী জোটের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর দলের তৃতীয় স্থানে নেমে আসাটা শুধু ডিএমকে-কেই নয়, বরং পুরো বিরোধী জোটকেই বড় ধাক্কা দিয়েছে।

কংগ্রেস ও বামদের সঙ্গে জোট থাকা ডিএমকে শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। তামিলনাড়ুর প্রবণতা অনুযায়ী, বিজয়ের দল ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা 'ইন্ডিয়া ব্লক'-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ ডিএমকে-র ভোটব্যাঙ্ক সরাসরি ক্ষয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোট তৃতীয় স্থানে নেমে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে এআইএডিএমকে এবং বিজয় একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লিপ্ত।

Advertisement

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বিজেপির চ্যালেঞ্জ
বঙ্গোপসাগরের রাজনৈতিক হাওয়া 'দিদি'-র জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। মমতা ২২৬টি আসন দাবি করলেও, প্রবণতা দেখাচ্ছে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হতে চলেছে। বিজেপি ১৯০টি আসনে এগিয়ে আছে, অন্যদিকে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১০০-এরও কম হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কংগ্রেস ও বামদের পৃথকভাবে লড়াই করার ফলে বিরোধী দলের ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় বিজেপি সরাসরি লাভবান হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগ এবং 'সন্দেশখালি'-র মতো ঘটনা দিয়ে মমতাকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। উপরন্তু, বিজেপির অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার কৌশল বাংলায় তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিয়েছে।

বিজেপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জিতলে মমতা জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী ‘বিজেপি-বিরোধী’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতেন। তবে, বাংলার এই পরাজয় শুধু তৃণমূলের জন্যই নয়, বিরোধী দলের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। মমতার সব আশা ধূলিসাৎ হচ্ছে।

'ইন্ডিয়া ব্লক' কী সংকটে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, 'ইন্ডিয়া' জোটের বর্তমান দুর্দশার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। বাংলায় মমতার 'একলা চলো' নীতি এবং তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের 'কনিষ্ঠ অংশীদার' মর্যাদা জোটটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই আঞ্চলিক হেভিওয়েটদের পরাজয়ের ফলে জাতীয় পর্যায়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য মুখ বিরোধী শিবিরে থাকবে না।

তামিলনাড়ুতে বিজয় (টিভিকে)-এর মতো নতুন মুখেরা জনগণকে একটি তৃতীয় বিকল্পের প্রস্তাব দিয়ে চিরাচরিত জোটের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পরাজয় ইন্ডিয়া ব্লকের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো (বিজেপি ও নতুন দলগুলো) পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু উভয় রাজ্যেই শাসক দলগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ফলাফল 'ইন্ডিয়া' জোটের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হবে। এই জোটের মূল স্তম্ভ কংগ্রেস নিজেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পারে, কারণ আঞ্চলিক প্রভাবশালী দলগুলো পরাজিত বা দুর্বল হয়ে পড়বে। বিরোধী দলগুলো কি তখনও ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারবে, নাকি ২০২৬ সালের নির্বাচন 'ইন্ডিয়া' জোটের পতনের সূচনা করবে?

Read more!
Advertisement
Advertisement