
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফল ও ন্যায়ের দেবতা মনে করা হয়। শনি অত্যন্ত ধীরগতির গ্রহ হওয়ায় এক একটি রাশিতে প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করে। আর এই অবস্থানের কারণেই জাতকদের জীবনে শুরু হয় শনির সাড়েসাতির সাড়ে সাত বছরের দীর্ঘ চক্র। বর্তমানে অর্থাৎ চলতি বছর শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন। যার ফলে এই মুহূর্তে রাশিচক্রের ৩টি বিশেষ রাশির উপর শনির সাড়েসাতির প্রভাব চলছে। তবে এর মধ্যে কারা খুব তাড়াতাড়ি এই কষ্টদায়ক দশা থেকে চিরতরে রক্ষা পেতে চলেছেন।
কোন কোন রাশি শনির সাড়েসাতি থেকে মুক্তি পাবে?
মীন রাশি: যেহেতু শনিদেব এখন মীন রাশিতেই অবস্থান করছেন, তাই মীন রাশির জাতকদের উপর সাড়েসাতির দ্বিতীয় বা মধ্যম পর্যায় চলছে, যা সবচেয়ে কঠিন এবং প্রভাবশালী বলে গণ্য হয়। মীন রাশির জাতকদের উপর এই সময়ে মানসিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্বের বোঝা এবং কর্মক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রমের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তবে সততা ও শৃঙ্খলার সাথে কাজ করলে শনিদেব এদের পরবর্তী জীবনে বড় সাফল্যও দিতে পারেন।
মেষ রাশি: মেষ রাশির জাতকরা সাড়েসাতির কেবল প্রথম পর্যায় বা শুরুর দিক চলছে। শনির এই অবস্থানের কারণে মেষ রাশির জাতকদের আর্থিক চাপ, হঠাত্ করে খরচ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে কিছুটা মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়ে মেষ রাশির জাতকদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে চলতে হবে।
কুম্ভ রাশি: কুম্ভ রাশির জাতকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। বিগত প্রায় সাড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে চলা চরম মানসিক ও আর্থিক লড়াইয়ের পর এবার তাদের সুদিন ফিরতে চলেছে। কুম্ভ রাশির উপর এখন সাড়েসাতির একেবারে শেষ বা তৃতীয় পর্যায় চলছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই বছরের শেষের দিকেই কুম্ভ রাশির জাতকরা শনির সাড়েসাতির প্রকোপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বা রক্ষা পেতে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ এবার দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে, কমবে মানসিক চাপ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
শনিদেবের কুপ্রভাব থেকে বাঁচার উপায়
জ্যোতিষীদের মতে, সাড়েসাতির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে এবং শনিদেবের কৃপা লাভ করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।
> প্রতি শনিবার হনুমান চালিশা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ ফল দেয়।
> অসহায়, দরিদ্র এবং অভাবী মানুষদের সাহায্য করলে শনিদেব দ্রুত সন্তুষ্ট হন।
> শনিবার কালো তিল, সর্ষের তেল বা বিউলির ডাল দান করা যেতে পারে।
দ্রষ্টব্য: রাশি সংক্রান্ত এই তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্র ও প্রচলিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি। এটি কোনও সম্পাদকীয় মতামত, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বা নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।