
বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির শোবার ঘরের দিক নাকি মানুষের মানসিক শান্তি, ঘুমের গুণমান এবং পারিবারিক সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভুল দিকে বেডরুম হলে অশান্তি, দুশ্চিন্তা কিংবা ঘুমের সমস্যাও বাড়তে পারে। তাই বাড়ি তৈরির সময় বা ঘর সাজানোর আগে অনেকেই এখন বাস্তু মেনে শোবার ঘরের অবস্থান ঠিক করতে চাইছেন।
বিশেষ করে নতুন ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার সময় ‘মাস্টার বেডরুম’ কোন দিকে রয়েছে, তা নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সঠিক দিকে শোবার ঘর থাকলে শুধু মানসিক শান্তিই নয়, সংসারে ইতিবাচক শক্তিও বাড়তে পারে।
কোন দিকে শোবার ঘর সবচেয়ে শুভ?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক শোবার ঘরের জন্য সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিককে স্থিরতা ও নিরাপত্তার প্রতীক ধরা হয়। পরিবারের কর্তা বা দম্পতিদের জন্য এই দিকের বেডরুম নাকি সবচেয়ে ভাল। এতে সম্পর্ক মজবুত হয় এবং মানসিক স্থিরতাও বজায় থাকে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব দিকে শোবার ঘর না রাখাই ভাল বলে মনে করা হয়। এই দিককে পুজো বা ধ্যানের জন্য উপযুক্ত বলা হয়। সেখানে বেডরুম হলে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে দাবি বাস্তুশাস্ত্রের।
সন্তানদের ঘর কোন দিকে হওয়া উচিত?
বাস্তু মতে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক সন্তানদের শোবার ঘরের জন্য ভাল। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে এবং ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয় বলে মনে করা হয়। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই দিককে তুলনামূলক শুভ ধরা হয়।
তবে পড়ার টেবিল এমন ভাবে রাখতে বলা হয়, যাতে পড়াশোনার সময় মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকে। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এতে মনোসংযোগ বাড়ে।
কোন দিকে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত?
শুধু ঘরের দিক নয়, ঘুমানোর সময় মাথা কোন দিকে থাকবে, সেটাও বাস্তুতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সবচেয়ে ভাল। এতে শরীর ও মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে দাবি করা হয়।
পূর্ব দিকে মাথা রেখেও ঘুমানো যেতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি শুভ বলে মনে করা হয়। তবে উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমাতে বারণ করেন অনেকে। বাস্তু মতে, এতে ঘুমের সমস্যা বা মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
বেডরুমে কী কী এড়িয়ে চলা উচিত?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, শোবার ঘরে অতিরিক্ত আয়না না রাখাই ভাল। বিশেষ করে বিছানার সামনে আয়না থাকলে তা নাকি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ঘর অগোছালো রাখা, ভাঙা জিনিস জমিয়ে রাখা বা অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক্স রাখাও বাস্তু অনুযায়ী শুভ নয়।
হালকা রং, পরিষ্কার পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকলে ঘরের ইতিবাচক শক্তি বাড়ে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই তাই এখন বেডরুম সাজানোর সময় বাস্তুর নিয়ম মানার চেষ্টা করছেন।
তবে মনে রাখতে হবে, বাস্তুশাস্ত্র মূলত বিশ্বাস এবং প্রাচীন ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সর্বত্র মেলে না। তবুও মানসিক শান্তি এবং ইতিবাচক পরিবেশের জন্য বহু মানুষ এই নিয়ম মেনে চলেন।