
Brain Dead Man Wakes Up: চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেছিলেন। অপারেশন থিয়েটারে নিথর দেহ ঘিরে তখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। শুরু হতে চলেছে শরীর থেকে একে একে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বের করে নেওয়ার প্রক্রিয়া। মৃত যুবকের শেষ ইচ্ছে ছিল তাঁর অঙ্গেই বাঁচুক অন্য কোনো প্রাণ। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ঠিক আগের মুহূর্তে যা ঘটল, তা কোনো ভৌতিক সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম কিছু নয়। হঠাতই অপারেশন টেবিল নড়েচড় উঠলেন ওই যুবক, দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে এল জল! চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার কেন্টাকিতে।
২০২১ সালের অক্টোবর মাস। কেন্টাকির বাসিন্দা অ্যান্থনি থমাস ওরফে ‘টিজে’ হুভার দ্বিতীয় অত্যধিক মাদক সেবনের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। রিচমন্ডের ব্যাপটিস্ট হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। হুভার ছিলেন নথিভুক্ত অঙ্গদাতা। তাই শোকাতুর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়লেও তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানোর অনুমতি দেয়।
হাড়হিম মুহূর্ত:
অঙ্গ সংগ্রহের প্রস্তুতির সময় হুভারের সারা শরীর সার্জিক্যাল চাদরে ঢাকা ছিল। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁর শরীরের লোম পরিষ্কার করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী নাতাশা মিলার, যিনি সেই সময় অঙ্গদাতা সংস্থার কর্মী ছিলেন, তাঁরা জানান, হঠাতই দেখা যায় হুভার ছটফট করছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দু’চোখ বেয়ে তখন অশ্রু ঝরছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে ওই যুবক কাঁদছেন। এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন উপস্থিত সকলে। দুজন চিকিৎসক এমন অবস্থায় অঙ্গ বের করতে অস্বীকার করেন। যদিও অভিযোগ উঠেছিল, সেই সময়কার সুপারভাইজার অন্য চিকিৎসক খুঁজে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হুভারের বোন ডোনা রোহরর জানিয়েছেন, আইসিইউ থেকে যখন ভাইকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই সে চোখ খুলেছিল এবং ঘাবড়ে গিয়ে ইতিউতি তাকাচ্ছিল। পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করলেও চিকিৎসকরা তখন সেটাকে স্নায়ুর সাধারণ প্রতিক্রিয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ডোনার মতে, হারিকেন রিতা ও ক্যাটরিনার বিভীষিকা দেখার পর থেকেই অবসাদ ও পিটিএসডি-তে (PTSD) ভুগছিলেন হুভার। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি মাদকের আশ্রয় নেন এবং মায়ের জন্মদিনের দিনই গাড়ির ভেতরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
বর্তমানে অ্যান্থনি থমাস হুভার সম্পূর্ণ সুস্থ। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সেই সময়ের পুরো ঘটনাটিই তাঁর কাছে এখন একটি দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়। এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটির পর সেই সময় অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। অপারেশন টেবিলে হুভার জেগে ওঠায় অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিকল্পনা তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যায় এবং ফিরে পাওয়া যায় এক অমূল্য জীবন।