Advertisement

Churches in Kolkata: কলকাতার এই গির্জাগুলি শুধু প্রাচীনই নয়, রয়েছে রোমহর্ষক ইতিহাসও, জানুন

কলকাতা (Kolkata) মানে আবেগ। এই আবেগকে অনুভব করতে হয়। দেশের গৌরবময় রন্ধনপ্রণালী, ঐতিহ্য, ইতিহাস, অতুলনীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বাংলা ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে। কলকাতার আনাচে কানাচে অবস্থিত গির্জাগুলি (Churches of Kolkata) শহরের ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামনেই বড়দিনের উৎসব। আপনি যদি চান এদিন কোনও গির্জায় গিয়ে সময় কাটাবেন, ঘুরে দেখবেন, তবে অবশ্যই এগুলিতে যান।

সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল, কলকাতা সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল, কলকাতা
মধুরিমা দেব
  • কলকাতা,
  • 20 Dec 2021,
  • अपडेटेड 5:25 PM IST
  • কলকাতার সবচেয়ে আইকনিক গির্জাগুলির মধ্যে একটি হল সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল
  • কলকাতার আর্মেনিয়ান চার্চটি ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়, যা এই শহরের প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে একটি
  • পর্তুগিজ বসতির একমাত্র চার্চ ছিল ব্যান্ডেল চার্চ

কলকাতা (Kolkata) মানে আবেগ। এই আবেগকে অনুভব করতে হয়। দেশের গৌরবময় রন্ধনপ্রণালী, ঐতিহ্য, ইতিহাস, অতুলনীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বাংলা ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে। কলকাতার আনাচে কানাচে অবস্থিত গির্জাগুলি (Churches of Kolkata) শহরের ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামনেই বড়দিনের উৎসব। আপনি যদি চান এদিন কোনও গির্জায় গিয়ে সময় কাটাবেন, ঘুরে দেখবেন, তবে অবশ্যই এগুলিতে যান।পাশাপাশি, জেনে নিন এর রোমহর্ষক ইতিহাস।

সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল (St Paul’s Cathedral, Kolkata)

রবীন্দ্র সদন ও ময়দান মেট্রো স্টেশনের মাঝে অবস্থিত সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল চার্চ। কলকাতার সবচেয়ে আইকনিক গির্জাগুলির মধ্যে একটি হল সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল। ইন্দো-গথিক স্থাপত্যের একটি দুর্দান্ত বিবৃতি। ১৮৪৭ সালে এটি তৈরি হয়। এশিয়ার প্রথম 'এপিস্কোপাল চার্চ' হিসেবে বিবেচিত হয়। এর দৈর্ঘ্য ২৪৭ ফুট, প্রস্থ ৮১ ফুট ও ১৭৫ ফুট এর উচ্চতা। তৎকালীন সময়ে নির্মাণ করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এই ক্যাথেড্রালটি কলকাতার বৃহত্তম গির্জা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর শৈল্পিক সৌন্দর্য যা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে এটি।

আরও পড়ুন

আর্মেনিয়ান চার্চ (Armenian Church of the Holy Nazareth, Kolkata)

কলকাতার আর্মেনিয়ান চার্চটি ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়, যা এই শহরের প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে একটি। বছরের পর বছর ধরে, এই গির্জার নকশা এবং কাঠামো অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে, তবে এটি শহরের একটি ল্যান্ডমার্ক হিসাবে আজও পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। ১৬৮৮ সালের আগে আর্মেনিয়ান চার্চটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়। আজও কলকাতার বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার আর্মেনিয়ান চার্চ।

আর্মেনিয়ান চার্চ

সেন্ট আন্ড্রিউজ চার্চ (St. Andrew's Church, Kolkata)

সেন্ট অ্যান্ড্রু'স চার্চকে শহরের প্রথম এবং একমাত্র স্কটিশ চার্চ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৮১৮ সালে প্রায় দু'শতাব্দী আগে এই গির্জাটি নির্মাণ করা হয়। এর লম্বা চূড়া অন্যতম আকর্ষণ। এটিও কলকাতার অন্যতম স্থাপত্য ল্যান্ডমার্ক হিসেবে সুপরিচিত। আন্ড্রিউজ চার্চ যেন চোখের প্রশান্তি দেয়। প্রচুর পর্যটক এখানে ভিড় জমান। 

Advertisement

ব্যান্ডেল চার্চ (Bandal Church, Hooghly) 

ব্যান্ডেল নামটি এসেছে বাংলা শব্দ 'বন্দর' থেকে। পর্তুগিজ ও মুঘলদের সময়ে হুগলির বন্দর ছিল বলে মনে হয় এই নামকরণ। পর্তুগিজ বসতির একমাত্র চার্চ ছিল এটি। হুগলি নদীর পাশে তৈরি কাঠের গির্জা — ‘নোসা সেনহোরা দো রোজারিও’। যার ইংরাজি অর্থ ‘আওয়ার লেডি অফ হ্যাপি ভয়েজ’। সেটিই এখনকার ব্যান্ডেল চার্চ। এটি 'ব্যান্ডেল' স্টেশন থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে। ১৬৬০ সালে গোমেজ ডে সোটোর দ্বারা এই গির্জাটি নির্মিত বলে বলা হয়। কলকাতা শহরের বাইরে শহরতলিতে এটি একটি আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল। 

ব্যান্ডেল চার্চ

এছাড়াও, কলকাতার বুকে সেন্ট থমাস চার্চ, সেন্ট জোনস চার্চ, গ্রিক অর্থোডক্স কলকাতা, চার্চ অফ খ্ৰীষ্ট দ্য কিং-এর মতো উল্লেখযোগ্য কিছু চার্চ আছে। শিয়ালদহে রয়েছে সেন্ট ব্যাপ্টিস্ট চার্চ। কলকাতা শুধু নয়, চন্দননগরের ক্যাথলিক চার্চ, চুঁচুড়া চার্চ এগুলিও পর্তুগিজ সময়ের নিদর্শন। শুধু উৎসবের দিন কেন, অন্য সময়েও পর্যটকের ভিড়ে গমগম করে এই পুরাতন ঐতিহ্যগুলি। দেশ, বিদেশের থেকে ভিড় করেন পর্যটকেরা। কলকাতার পুরনো ইতিহাসে ডুব দেন ভ্রমণপিপাসুরা।

Read more!
Advertisement
Advertisement