Advertisement

Netaji’s Mystery Exclusive: 'বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি নেতাজির', তাইওয়ান তদন্ত-রিপোর্টে জল্পনা

গত সাত দশকে একটি কমিটি (শাহনওয়াজ কমিটি) এবং দুটি কমিশন (বিচারপতি খোসলা কমিশন এবং বিচারপতি মুখার্জি কমিশন) গঠন করেছে ভারত সরকার। কেউই প্রামাণ্য নথি দেখাতে পারেননি যা নিশ্চিত করতে পারে ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল। তাইওয়ানে আমাদের সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য যা নেতাজির রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
শুভম পাল
  • নয়াদিল্লি ,
  • 23 Jan 2023,
  • अपडेटेड 4:12 PM IST
  • তাইওয়ানে কি সত্যিই বিমান দুর্ঘটনা?
  • কেন নেতাজির কোনও তথ্য নেই তাইওয়ান পুলিশের রিপোর্টে?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আপামর ভারতীয়র আইকন। তাঁর আদর্শ অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও নেতাজির শেষজীবন নিয়ে থেকে গিয়েছে রহস্য। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার পর নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল কি? তার অনুসন্ধানের জন্য গত সাত দশকে একটি কমিটি (শাহনওয়াজ কমিটি) এবং দুটি কমিশন (বিচারপতি খোসলা কমিশন এবং বিচারপতি মুখার্জি কমিশন) গঠন করেছে ভারত সরকার। কেউই প্রামাণ্য নথি দেখাতে পারেননি যা নিশ্চিত করতে পারে ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল। তাইওয়ানে আমাদের সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য যা নেতাজির রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 

নেতাজির মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিল তাইওয়ান

বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তাইওয়ান পুলিশের তদন্ত ফাইলে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি সম্পর্কিত কোনও তথ্য নেই। অতীতের কোনও তদন্ত কমিশনে এটির উল্লেখ বা প্রসঙ্গ মেলেনি। তাইওয়ান ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে তাইপেই ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির (NTU) স্নাতকোত্তরের ছাত্র সৌরভ ডাঙ্গার এই নথি উদ্ধার করেছেন। যাতে মান্দারিনে লেখা ছিল,'마마바화문리가스世界晌鍘鍘夘鍘夑夘堯堀天世界।在臺死学'। যার আক্ষরিক অর্থ,'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের জাতীয় নেতা সুভাষচন্দ্র বসু তাইওয়ানে মারা গিয়েছেন তার কোনও প্রমাণ নেই।'তাইওয়ান সরকার কর্তৃক তদন্ত চলেছিল ১৯৫৬ সালের ১৯ জুন থেকে ১৯৫৬ সালের ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত।  আশ্চর্যের বিষয় হল, ভারত সরকার নিযুক্ত শাহনওয়াজ কমিটি ১৯৫৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত তদন্ত ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের এরাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নথিভুক্ত করেছিল।  আশ্চর্যের বিষয় হল,কমিটির প্রধান শাহনওয়াজ খান যিনি নেতাজির প্রাক্তন সতীর্থ তথা কংগ্রেস সাংসদ, তাইওয়ানে ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি। 

তাইওয়ানের নথি।

গুরুত্বপূর্ণ ফাইলকে উপেক্ষা

পরবর্তী নেতাজি মৃত্যু-রহস্য নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠিত হয় ১৯৭০ সালে (বিচারপতি খোসলা কমিশন)। ২০০৫ সালে গঠিক হয় বিচারপতি মুখার্জি কমিশন। কিন্তু দু'টি কমিশনের রিপোর্টে তাইওয়ান সরকারের অনুসন্ধান উল্লেখ নেই। যে দেশে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছিল। ১৪ পাতার ওই নথি দুটি কমিশনের অনুসন্ধানেই রহস্যজনকভাবে ঠাঁই পায়নি। নথির তৃতীয় পাতায় একেবারে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের জাতীয় নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি।   
 
তাইওয়ান সরকারের নথির পাঠোদ্ধার

Advertisement

তাইওয়ান পুলিশের তদন্ত ফাইলের পঞ্চম পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে,তাইচুং থেকে মান্দারিন শিক্ষক তথা অনুবাদক জানিয়েছেন, 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুর তারিখটি ছিল তিরিশ দশকের মাঝামাঝি আগস্টে। চিনা প্রজাতন্ত্রের চতুর্থ বছর (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ)। তখন ওই অঞ্চল ছিল জাপানের দখলে। তবে জাপান সরকারের পুলিশ বিভাগের ফাইলগুলিতে বসুর সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই।'ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,'তাইওয়ান পুনরুদ্ধারের পর জনৈক কমরেড জানিয়েছিলেন, হস্তান্তরের আগেই গোপনীয় ও রাজনৈতিক ফাইলগুলি ধ্বংস করে দিয়েছে জাপানি সরকার। সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু সম্পর্কিত কোনও তথ্য নেই ফাইলে।

তাইওয়ানের নথি।

অষ্টম পৃষ্ঠার রহস্য 

ফাইলের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হল, অষ্টম পৃষ্ঠা। যা আজও গোপন করে রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এই অংশটি ব্যক্তিগত। পড়তে চাইলে আবেদন করুন। পর্যালোচনার পর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনেই ফাইলের ওই অংশ পড়ার অনুমতি চান  ডাঙ্গার। তবে এখনও পর্যন্ত ওই অংশ পড়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।      

শেষকৃত্য নিয়ে বিভ্রান্তি 

১৯৪৫ সালের ২২ অগাস্ট তাইপেই জুড়ে শবদেহের শেষকৃত্যের তথ্য দেখেছেন ডাঙ্গার। জানা গিয়েছে, নেতাজিকে সমাহিত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই জায়গাটি হল- জিনশেং নর্থ রোডের কাছে লিনসেন পার্ক। যা রেকর্ড বলছে,  ইচিরো ওকুরা নামে জনৈক জাপানি নাগরিক শেষকৃত্য করেছিলেন। মজার বিষয় হল, জাপানি সেনার সেই ব্যক্তির জন্ম হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল। মৃত্যু ১৯৪৫ সালের ১৯ অগাস্ট। ঠিকানা- ২-১ ডোগেনজাকা, টোকিওর শিবুয়া-কু। অথচ নেতাজিকে সমাহিত করা হয়েছিল ২২ অগাস্ট। অগাস্টে মৃতদের শেষকৃত্য নিয়ে যে নথি রয়েছে তাতে কোথাও নেতাজির কথা উল্লেখ নেই। আর যেভাবে ক্রমিক সংখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট, মৃতদের তথ্য নিয়ে জাপানি সরকার কোনও কারসাজি বা ধ্বংস করেনি। 

তাইওয়ানের নথি।

বিমান দুর্ঘটনার খবর নেই জাপানি সংবাদপত্রে

তাইওয়ানের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে একটি জাপানি সংবাদপত্র 'দ্য আসাহি শিনবুন'দেখে চমকে উঠেছিলেন লেখক। মিৎসুবিশি কি-২১ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তাতে কোনও প্রতিবেদনই ছিল না। তাইহোকু বিমানবন্দন তখন জাপানের সেনার দখলে ছিল। তৎকালীন ফরমোসায় জাপানি সামরিক শাসনের অধীনে দুর্ঘটনার দিন এবং নেতাজির মৃত্যুর পরবর্তী পাঁচদিনের কোনও তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব বিশ্বাস করা হলে তাইওয়ানে কেটেছিল নেতাজির শেষদিনগুলি। তবে নেতাজি সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য হয় হারিয়ে গিয়েছে না হয় বিভ্রান্তিতে ভরা। তাইওয়ানের সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, নেতাজি নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী ভারতীয়দের তারা স্বাগত জানাচ্ছে। প্রিয় নায়কের অন্তর্ধান নিয়ে সমস্ত নথিও দেখতে পারবেন ভারতীয় গবেষকরা।

Read more!
Advertisement
Advertisement