
প্রতিদিন সকালে আকাশে যে সূর্যকে দেখি, তার আসল আকার কল্পনা করাও কঠিন। পৃথিবীর তুলনায় সূর্য এতটাই বিশাল যে তার ভিতরে প্রায় ১৩ লক্ষ পৃথিবী ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব। শুধু আকার নয়, সূর্যের তাপমাত্রা এবং শক্তির পরিমাণ জানলেও অবাক হতে হয়।
পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭৪২ কিলোমিটার। সেখানে সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ ব্যাসের হিসাবে সূর্য পৃথিবীর প্রায় ১০৯ গুণ বড়। আর আয়তনের হিসাব করলে ব্যবধান আরও বিশাল। সেই কারণেই প্রায় ১৩ লক্ষ পৃথিবী সূর্যের ভিতরে জায়গা পেতে পারে।
সূর্যের ওজন কত?
সূর্যের ভর প্রায় ২-এর পর ৩০টি শূন্য কিলোগ্রাম। আরও সহজ করে বললে, সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় ৯৯.৮ শতাংশই সূর্যের। পৃথিবী, বৃহস্পতি, শনি-সহ বাকি সব গ্রহ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু মিলিয়ে যা ভর, তার তুলনায় সূর্যের ভর বিপুল।
কত গরম সূর্য?
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ভিতরে ঢুকলে তাপমাত্রা আরও ভয়ঙ্কর। সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে বিজ্ঞানীদের হিসাব।
এই প্রচণ্ড তাপের কারণেই সূর্যের কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটে। সেখানে হাইড্রোজেন পরমাণু মিশে হিলিয়াম তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল শক্তি তৈরি হয়। সেই শক্তিই আলো ও তাপের আকারে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
সূর্যের আলো আসতে কত সময় লাগে?
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। এত দূরে থেকেও সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মতো।
অর্থাৎ এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে যে সূর্যকে দেখছেন, আসলে সেটি প্রায় আট মিনিট আগের সূর্য। সূর্যের আলোয় কোনও পরিবর্তন হলে আমরা তা সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পাব না।
সূর্যের বয়সও চমকে দেওয়ার মতো
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের বয়স প্রায় ৪৬০ কোটি বছর। আরও কয়েকশো কোটি বছর ধরে এটি আলো ও শক্তি উৎপন্ন করতে থাকবে। ভবিষ্যতে অবশ্য সূর্যের চেহারা ও অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
আর একটি মজার তথ্য হল, সূর্যের আলো এবং তাপ পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর জলবায়ু; সব ক্ষেত্রেই সূর্যের ভূমিকা রয়েছে। সূর্যই আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্র। আর তার বিশাল আকারের সামনে আমাদের পৃথিবী নগণ্য।