
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ৪৭ বলে দুরন্ত সেঞ্চুরি করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে রানের পাহাড়ে বসিয়ে দিলেন তিনি। সে়ঞ্চুরির আগে একবার জীবন পেলেও তাকে তার তাণ্ডবের কৃতিত্বকে কোনও ভাবেই ছোট করা যায় না। দুই সঙ্গী প্রথমে ট্রাভিস হেড ও পরে ইশান কিসানের কিছু করার ছিল না। তাঁরা নিজেদের ভূমিকা যথাযথ পালন করেছেন। কিন্তু এদিন পুরো দিনটাই ছিল অভিষেকের। একের পর এক তাঁর ব্যাটে লেগে বল আছড়ে পড়েছে গ্যালারিতে ততই রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদের সমর্থকদের হাসি চওড়া হয়েছে আর কপালে ভাঁজ বেড়েছে দিল্লির।
অভিষেকের এটা আইপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আর এই সেঞ্চুরির হাত ধরেই ছুঁয়ে ফেললেন কিংবদন্তি বিরাট কোহলিকে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে (T20) ভারতীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৯টি সেঞ্চুরির রেকর্ডে এখন বিরাটের পাশেই নাম খোদাই করলেন ২৫ বছর বয়সি এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।
এদিন টস জিতে সানরাইজার্সকে প্রথমে ব্যাট করতে ডাকেন দিল্লি অধিনায়ক কেএল রাহুল। যদিও নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অভিষেক। ওপেনিং পার্টনার ট্র্যাভিস হেড যখন কিছুটা হাত খুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন অন্য প্রান্তে বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন অভিষেক। সাতটি চার এবং নয়টি আকাশচুম্বী ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর এই মহাকাব্যিক ইনিংস। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে হায়দরাবাদ স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেছিল ৬৭ রান। নবম ওভারে হেড (২৬ বলে ৩৭) ফিরলেও অভিষেকের মারে ভাটা পড়েনি। ওপেনিং জুটিতে দুজনে মিলে ৫৩ বলে ৯৮ রান যোগ করেন, যার মধ্যে অভিষেকের অবদানই ছিল ২৭ বলে ৫৮ রান। শেষে হেনরিক ক্লাসেন অবশ্য অল্প কয়েকটি বল খেলে অভিষেকের চাপ হালকা করে দেন। তিনি ১৩ বলে ৩৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।
চলতি আইপিএলে শতরানকারীদের তালিকায় অভিষেক চতুর্থ নাম। তাঁর আগে সিএসকে-র হয়ে সঞ্জু স্যামসন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কুইন্টন ডি কক এবং তিলক বর্মা তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন। এদিন অধিনায়ক ইশান কিষানকেও একসময় মনে হচ্ছিল অভিষেকের ছায়া সঙ্গী। ১৫তম ওভারের প্রথম দুই বলেই নীতিশ রানাকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে ১০৪ রানে (৪৭ বল) পৌঁছান এই হায়দরাবাদি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৬৮ বলে ১৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।