
Bangladesh vs Pakistan Test: মীরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারাল বাংলাদেশ। এই প্রথম বার ঘরের মাঠে টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতল তারা। পাঁচ দিনের ম্যাচে ব্যাট-বল; দুই ক্ষেত্রেই রীতিমতো দাপট দেখালেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাঁর সতীর্থরা। শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে ঐতিহাসিক জয় এল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।
মঙ্গলবার ম্যাচের শেষ দিন ছিল। পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চাপের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। শেষ উইকেট হিসেবে শাহিন আফ্রিদিকে ফিরিয়েই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ ধৈর্য নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত ১০১ রান করেন। তাঁর ইনিংস বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভিত গড়ে দেয়। মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ।
জবাবে পাকিস্তানও লড়াই করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই নজর কাড়েন আজান আওয়াইস। দুর্দান্ত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পাশাপাশি আবদুল্লাহ ফাসিহ ৬০, সালমান আগা ৫৮ এবং মহম্মদ রিজওয়ান ৫৯ রান করেন। তবে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৩৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ নেন দু’টি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। আবারও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন শান্ত। তিনি ৮৭ রান করেন। মোমিনুল হকও গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ২৪০/৯ স্কোরে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
শেষ ইনিংসে শুরু থেকেই পাকিস্তানের উপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি এবং আগ্রাসী বোলিংয়ে বারবার সমস্যায় পড়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার। একমাত্র আবদুল ফাসিহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৬৬ রান করেন। কিন্তু অন্য কেউ বড় রান করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
এই ম্যাচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। চতুর্থ দিনে মুশফিকুর রহিমের একটি সহজ ক্যাচ পড়ে যায়। লিটন দাসও একবার DRS-এর সাহায্যে এলবিডব্লিউ থেকে বাঁচেন। যদিও পরে বড় রান করতে পারেননি। অন্য দিকে পাকিস্তানের হয়ে আজান আওয়াইসের শতরান ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা।
মীরপুর টেস্টে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত বলেই মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারানো বাংলাদেশের পরিণত ক্রিকেট সত্ত্বারই প্রমাণ বলা যেতে পারে।