
২০১১-র বিশ্বকাপ জিতলেও, দলে ছিলেন না রোহিত শর্মা। সেই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে হিট্ম্যানকে বাদ দেওয়া নিয়ে আজও অনুতপ্ত প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণ মাচারী শ্রীকান্ত। ২০১১ বিশ্বকাপে, এমএস ধোনির নেতৃত্বে ভারত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ২৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনাল ম্যাচ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
'রোহিতের জন্য খারাপ লাগে' বললেন শ্রীকান্ত
শ্রীকান্ত ব্যাখ্যা করেছেন যে দল নির্বাচনের সময় টিম ম্যানেজমেন্ট এমন খেলোয়াড়দের উপর মনোযোগ দিয়েছিল যারা ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন, 'রোহিতের জন্য আমার এখনও খারাপ লাগে। গত বছর আমি তার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলাম। এটা ইচ্ছাকৃত ছিল না, কিন্তু আমরা এমন খেলোয়াড়দের বেছে নিতে চেয়েছিলাম যারা 'হাফ-অলরাউন্ডার'-এর ভূমিকা পালন করতে পারে।'
রোহিত সম্পর্কে শ্রীকান্ত কী বললেন?
শ্রীকান্ত বলেন যে, দলের সমন্বয়ের ব্যাপারটা ১৯৮৩ বিশ্বকাপের মতোই একই চিন্তাভাবনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল, যেখানে অনেক খেলোয়াড় ব্যাট ও বল উভয় দিক থেকেই দলের জন্য অবদান রেখেছিলেন। শেষে, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় কে ছিলেন? যুবরাজ সিং, যিনি ব্যাটও বল উভয় ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে তাক লাগিয়ে দেন। আমাদের দলে সেহয়াগ, সচিন, রায়না এবং ইউসুফের মতো খেলোয়াড় ছিলেন, যারা প্রয়োজনে বোলিংও করতে পারতেন।
শ্রীকান্ত স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়ে দলে রোহিতের জায়গা পাওয়াটা পুরোপুরি ন্যায্য ছিল, কিন্তু 'হাফ-অলরাউন্ডার' ধারণাটির কারণেই তিনি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই বিশ্বকাপে খেলার জন্য রোহিত সম্পূর্ণ যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি সুযোগটি পাননি।
রোহিত শর্মা এখনও ওডিআই বিশ্বকাপ জেতেননি
উল্লেখ্য যে, ২০১১ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ায় রোহিত শর্মা বারবার নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০০৭, ২০২৪) এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (২০১৩, ২০২৫) জিতেছেন, পাশাপাশি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে পাঁচবার আইপিএল জিতেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ী কোনো দলের অংশ হতে পারেননি। সেই কারণেই তাঁর পাখির চোখ থাকবে ২০২৭-এর বিশ্বকাপ। আর সেই কারণেই তিনি জোরদার প্রস্তুতি চালাচ্ছেন।
২০২৩ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেন, তাঁর দল দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়।