
PBKS Vs DC IPL 2026: শনিবারের অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ক্রিকেট নয়, যেন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দেখল তিলোত্তমা। আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রান তাড়া করার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট দুনিয়া। ২৬৪ রান তুলে ২ উইকেটে যখন ইনিংস শেষ করল দিল্লি ক্যাপিটালস, গ্যালারির সমর্থকরা তো বটেই, অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই হয়তো পঞ্জাবের হার লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটে যে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তা প্রমাণ করে দিল প্রীতি জিন্টার পঞ্জাব কিংস। দিল্লির ২৬৪ রানের জবাবে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ল তারা।
রাহুলের অতিমানবিক ব্যাটিং
টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন দিল্লি অধিনায়ক। কেএল রাহুল এদিন খেললেন জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইনিংস। মাত্র ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রান! ১৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে ভর করে দিল্লি রানের এভারেস্ট তৈরি করে। নীতিশ রানাও যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৪৪ বলে ৯১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। রাহুল-রানা জুটির ২২০ রানের সেই পার্টনারশিপ পঞ্জাবকে কার্যত মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আসল নাটক তখনও বাকি ছিল।
প্রভসিমরন-প্রিয়াংশের তাণ্ডব
২৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভয়ডরহীন ক্রিকেট উপহার দিল পঞ্জাব। শুরুতেই প্রিয়াংশ আরিয়া (১৭ বলে ৪৩) এবং প্রভসিমরন সিং দিল্লির বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেন। মাত্র ৭ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ১২৬ রান তুলে দিয়েছিল এই জুটি। বিশেষ করে প্রভসিমরনের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ২৬ বলে ৭৬ রান করে তিনি চেজের শক্ত খুঁটি পুঁতে দেন। ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংসই দিল্লির জয়রথ থামানোর কাজ শুরু করে।
শ্রেয়স ও নেহলের ফিনিশিং টাচ
মাঝপথে প্রভসিমরন ও প্রিয়াংশ আউট হয়ে গেলেও পঞ্জাবকে চাপে পড়তে দেননি নেহাল ওঢেরা ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দুজনে মিলে ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। নেহাল ১৫ বলে ২৫ করে আউট হলেও শ্রেয়স আইয়ার ঠান্ডা মাথায় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। দিল্লির বোলারদের অসহায় করে আইপিএলের ইতিহাসের বৃহত্তম রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল পঞ্জাব।
লিগ টেবিলের ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই জয়ের ফলে পঞ্জাব কিংস চলতি সিজনে তাদের অজেয় তকমা ধরে রাখল। ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের মগডালে। অন্যদিকে, দারুণ শুরু করেও শেষ ৪ ম্যাচের ৩টিতে হেরে দিল্লি ক্যাপিটালস এখন পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে। হেড-টু-হেড রেকর্ডে দুদলই এখন সমান-সমান (১৭-১৭)। কিন্তু এদিনের রাতটি ছিল স্রেফ পঞ্জাবের সাহসের এবং দিল্লির অবিশ্বাস্য হারের।