
২০০৮ সালে স্ল্যাপগেট কেলেঙ্কারি আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল আইপিএল-এ। হরভজন সিং-এর বিরুদ্ধে শ্রীশান্তকে চড় মারার অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার পর ভারতীয় দলে তাঁর সতীর্থকে ক্ষমা করে দিলেও, ফের শ্রীশান্ত সেই ঘটনায় সরব। এই স্ল্যাপগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে তৈরি হওয়া বিজ্ঞাপনে বিষয়টি কৌতুক আকারে দেখানো হয়েছে। যা একেবারেই পছন্দ নয় শ্রীশান্তের। পাশাপাশি তাঁর দাবি হরভজন এই বিজ্ঞাপনের জন্য ১ কোটি টাকা নিয়েছেন।
মালায়ালাম সংবাদসংস্থা মাতৃভূমিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রীশান্ত বলেন, 'আমি কোনো সাক্ষাৎকারে ভাজ্জি সম্পর্কে কখনো কথা বলিনি। এই প্রথমবার বলতে যাচ্ছি।' কিছুদিন আগেও কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু সে এটা নিয়ে আবারও একটা বিজ্ঞাপন তৈরি করল। এর থেকে সে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেছে। এরপর সে আমাকে ফোন করে এটা নিয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করতে বলল। আমি তাকে বললাম, ‘আমি ক্ষমা করব কিন্তু কখনো ভুলব না’। কেউ আপনার সঙ্গে অন্যায় করলে, তাকে ক্ষমা করা উচিত কিন্তু কখনো ভোলা উচিত নয়। আপনি ভুলে গেলে, তারা আবার একই কাজ করবে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
স্ল্যাপগেট বিতর্কটি কী?
২০০৮ সালের এপ্রিলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের মধ্যে একটি ম্যাচের পর আইপিএল থাপ্পড় কেলেঙ্কারিটি ঘটে। ম্যাচ-পরবর্তী করমর্দনের সময় হরভজনের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার পর শ্রীশান্তকে ক্যামেরায় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়, যা বেশ আলোচিত হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়া দ্রুতই আসে: হরভজনকে মরসুমের বাকি অংশের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং তার পুরো ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়, অন্যদিকে বিপর্যস্ত শ্রীশান্তের সেই ছবিগুলো আইপিএল যুগের প্রথম 'ভাইরাল' বিতর্কে পরিণত হয়।
আমি ইন্সটাগ্রামে হরভজনকে ব্লক করেছি: শ্রীশান্ত
পেসারের হতাশার মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে প্রকৃত অনুশোচনার অভাব, যা তার জনসমক্ষে দেখানো সংশোধিত ভ্রাতৃত্বের ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ বিপরীত। শ্রীশান্ত এ পর্যন্তও বলেছেন যে, জনসমক্ষে হরভজনের সাম্প্রতিক আপোষের প্রচেষ্টাগুলো ছিল লোক দেখানো।
'ওই ব্যক্তির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তাকে ভাই বলে ডাকতাম। কিন্তু গত এক-দুই মাসে সে ওই বিজ্ঞাপনটি করেছে এবং এখন আমি তাকে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করে দিয়েছি।' শ্রীশান্ত বলেন। আমার বাবা-মা আমাকে ক্ষমা করতে শিখিয়েছেন, কিন্তু কখনো ভুলতে দেননি। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, আর তাকে আমার প্রয়োজনও নেই। ঈশ্বর তার ও তার পরিবারের মঙ্গল করুন। অনেক সাক্ষাৎকারে, এমনকি অশ্বিনের সাথেও, সে আমার মেয়েকে নিয়ে কথা বলেছে। লোকে ভাববে, বাহ্, কী দারুণ একজন মানুষ সে। সে হয়তো একজন ভালো মানুষ। কিন্তু আমার মতে, ভারতের হয়ে খেলার সময় থেকে এখন পর্যন্ত, এ সবই একটা অভিনয়। আর সেই অভিনয়টা শ্রীশান্ত মানতে না।