
টি২০ বিশ্বকাপ জিতলেও, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আইপিএল ২০২৬ শেষ হলেই নির্বাচকরা টিম ইন্ডিয়ার পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। জানা গিয়েছে, বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের পদ ঝুঁকিতে রয়েছে। নির্বাচকদের একাংশ সূর্যের ব্যাটিংয়ে আর সন্তুষ্ট নন।
কেন ফেরানো হচ্ছে শ্রেয়সকে?
আর সে কারণেই ফিরে আসতে পারেন শ্রেয়াস আইয়ার। তবে শুধু দলে ফিরে আসাই নয়, তিনি ক্যাপ্টেনও হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্ট পরবর্তী টি-টোয়েন্টি মরসুমের জন্য নতুন আগে দলে কিছু বদল চাইছে। মূলত সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতি হবে এই দল গঠন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে শ্রেয়স ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন। তবুও গত টি২০ বিশ্বকাপে তাঁর জায়গা না পাওয়া নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। তবে ভারত বিশ্বকাপ জিতে যাওয়ায় সেই বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল।
এবার সূর্যকুমার একেবারেই ছন্দে না থাকায় তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। ভারত যেহেতু ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, বোর্ড একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সূর্যকুমার যাদব ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অধিনায়কত্বে দলটি ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সূর্য ৯ ইনিংসে ২৪২ রান করেন, কিন্তু এর মধ্যে ৮৪ রানই আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই। তিনি অন্যান্য বড় ম্যাচগুলোতে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা বেশ কিছুদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলেছে। সূর্য ৪৫টি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র ৯৩২ রান করতে পেরেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি বাদে, তিনি ধারাবাহিকভাবেই চাপে রয়েছেন।
চোট রয়েছে সূর্যকুমারের
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সূর্যকুমার যাদব দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ডান কব্জির সমস্যায় ভুগছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের গত মরসুম থেকে তাকে ভারী টেপ লাগিয়ে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করতে দেখা যাচ্ছিল। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীনও দলের ডাক্তার ড.রিজওয়ান খানকে বেশ কয়েকবার তাঁর কব্জিতে বিশেষ চিকিৎসা ও সাপোর্ট দিতে দেখা গিয়েছিল।
নির্বাচকদের জন্য সূর্যর বয়সও একটি উদ্বেগের বিষয়। তাঁর বর্তমান বয়স ৩৫ বছর এবং বোর্ড এখন আগামী দুই বছরের জন্য একজন স্থায়ী বিকল্প খেলোয়াড় তৈরির চেষ্টা করছে। অধিনায়কত্বের দৌড়ে সঞ্চজু স্যামসন ও ঈশান কিশনের নামও ছিল। কিন্তু আইপিএলে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সাফল্য পাওয়া আয়ারকেই বর্তমানে প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কবে থেকে দায়িত্ব পেতে পারেন শ্রেয়স?
ভারতের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে। তাই আইপিএল শেষ হওয়ার পর নির্বাচক কমিটির বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।