
কথায় বলে, প্রতিভা কখনও চাপা থাকে না। আইপিএল ২০২৬-এর শুরুতে ব্যাট হাতে কিছুটা ম্লান দেখাচ্ছিল তাঁকে। রান আসছিল না, টাইমিংয়েও হচ্ছিল গোলমাল। কিন্তু আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে যেন পুনর্জন্ম হলো তিলক ভার্মার। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে খাদের কিনারা থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে টেনে তুলে এক অতিমানবিক শতরান উপহার দিলেন তিনি। আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি যেন তুলির টানে আঁকা এক মহাকাব্য।
ম্যাচের শুরুটা কিন্তু মুম্বইয়ের জন্য মোটেই সুখকর ছিল না। মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে যখন নীল-ব্রিগেড ধুঁকছে, তখন ক্রিজে আসেন তিলক। শুরুতে কাগিসো রাবাডার আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে কিছুটা সতর্ক ছিলেন। প্রথম ৫০ রান পূর্ণ করতে নিয়েছিলেন ৩৩ বল। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির গণ্ডি পেরোতেই তিলক হয়ে উঠলেন রুদ্রচণ্ড। পরের ৫০ রান তুলতে খরচ করলেন মাত্র ১২ বল! অর্থাৎ ঝড়ের গতিতে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে মাত্র ৪৫ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়লেন তিনি।
তিলকের এই বিধ্বংসী ইনিংসে সাজানো ছিল ৮টি দৃষ্টিনন্দন চার এবং ৭টি গগনচুম্বী ছক্কা। গুজরাতের বোলারদের কার্যত পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর দাপটেই নির্ধারিত ২০ ওভারে মুম্বই ৫ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরে পৌঁছে যায়। একটা সময় যা অসম্ভব মনে হচ্ছিল, তিলকের ব্যাটের জাদুতে সেটাই বাস্তবে পরিণত হলো। রাবাডা ৩ উইকেট নিলেও শেষবেলায় তিলকের তান্ডব থামাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে গোটা গুজরাত শিবির।
চলতি মরসুমে তিলকের ফর্ম নিয়ে কিন্তু কম সমালোচনা হয়নি। আগের ম্যাচগুলোতে তাঁর চেনা ছন্দ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডট বলের সংখ্যা বাড়ছিল, যা মুম্বইয়ের মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলে দিচ্ছিল। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে। কিন্তু ৩০তম ম্যাচে এসে সেই সব ফর্মহীনতার গ্লানি ধুয়ে মুছে সাফ করে দিলেন তিনি। এই সেঞ্চুরি কেবল মুম্বইকে বড় রান দেয়নি, তিলককেও ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর হারানো আত্মবিশ্বাস।
এই শতরানের গুরুত্ব অসীম। একে তো আইপিএল ২০২৬-এর মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে মুম্বইকে অ্যাডভান্টেজ দিল, অন্যদিকে নির্বাচকদেরও কড়া বার্তা দিলেন তিলক। চাপের মুখে ধীরস্থির থেকে কীভাবে গিয়ার বদলে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিতে হয়, তিলক এদিন যেন সেই ক্লাস নিলেন। যে গতিতে তিনি ৩৩ বলের লড়াকু ইনিংসকে ৪৫ বলের শতরানে রূপান্তর করলেন, তা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাকরণ বইয়ে সোনার হরফে লেখা থাকবে।
সব মিলিয়ে আমেদাবাদ দেখল এক নতুন ‘তিলক রাজ’। ফর্মে ফেরা তিলক ভার্মা মানেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এক বড় স্বস্তি। মরসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে তাঁর এই চওড়া ব্যাট রোহিত-হার্দিকদের স্বপ্নকে আরও উসকে দিল। আইপিএল ২০২৬-এর ইতিহাসে এই বিধ্বংসী ইনিংসটি কেবল রানের বিচারে নয়, প্রত্যাবর্তনের গল্প হিসেবেও পাঠকদের মনে থেকে যাবে।