
Ind Vs Eng T20 Series: শনিবার সাউদাম্পটনের দ্য রোজ বোলে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের শেষ তথা পঞ্চম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলো। এই ম্যাচে ভারতকে ৫৬ রানে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল শক্তিশালী ইংল্যান্ড। মেগা এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংরেজ বাহিনী ভারতের সামনে ২৫৮ রানের এক বিশাল লক্ষ্য খাড়া করেছিল যার জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দল নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০১ রান তুলতে সক্ষম হয়। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজটি ৪-০ ব্যবধানে নিজেদের নামে করে নিল ইংল্যান্ড। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজে টিম ইন্ডিয়াকে চারটি ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হলো।
সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টি-২০ র্যাঙ্কিংয়েও বড়সড় ধাক্কা খেল ভারত। আইসিসি টি-২০আই র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর সিংহাসন থেকে নিচে নেমে যেতে হলো ভারতীয় দলকে। ভারতকে সরিয়ে এখন টি-২০ ক্রিকেটের এক নম্বর দল হিসেবে মগডালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। উল্লেখ্য এই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি চেস্টার লে স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যা বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। এরপর ম্যানচেস্টার টি-২০ ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয় পায়। নটিংহ্যামের ম্যাচে ইংরেজরা ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে ভারতকে হারায়। ব্রিস্টলের মাটিতেও আয়োজক দেশ ৯ উইকেটে ম্যাচ জেতে। আর সিরিজের শেষ ম্যাচে সাউদাম্পটনের মাঠেও শ্রেয়স আয়ারের ব্রিগেডকে চূর্ণ করল ইংলিশ বাহিনী।
বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। ওপেনার অভিষেক শর্মা ব্যক্তিগত মাত্র ৩ রান করে জোফ্রা আর্চারের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর উইকেটকিপার ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন কিছু চমৎকার শট খেললেও ব্যক্তিগত ২৭ রানে স্যাম কারনের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে বসেন। স্যামসন যখন আউট হন তখন ভারতের স্কোর ছিল ৫৫ রানে ২ উইকেট। এখান থেকে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ও ঈশান কিষাণ হাল ধরেন এবং তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন। শ্রেয়স আয়ারকে ২৮ রানের মাথায় লিয়াম ডসন নিজের ঘূর্ণিতে বোকা বানান। ভালো খেলতে থাকা ঈশান কিষাণ অর্ধশতরান করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এবং আদিল রশিদের শিকার হন। ঈশান ৩৫ বলে ৫৬ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন যার মধ্যে ছিল সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ঈশান আউট হওয়ার পরেই ম্যাচ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায় ভারত। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা অবশ্য ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে ৫৩ রানের লড়াকু ইনিংস উপহার দেন। তবে শিবম দুবে ১৪ রান, সূর্যাংশ শেডগে ৭ রান এবং অক্ষর প্যাটেল ৩ রান করে চরম হতাশ করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে স্যাম কারন সবচেয়ে বেশি ৩টি উইকেট নেন এবং আদিল রশিদ পান ২টি উইকেট।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটাও খুব একটা ভালো ছিল না কারণ ফিল সল্ট মাত্র ৬ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে আউট হয়ে যান। তবে এরপরের গল্পটা শুধুই জস বাটলার এবং অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের তাণ্ডবের। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের তুলোধোনা করে ১০২ বলে ২৩৩ রানের এক বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়েন যা ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। এই তাণ্ডবের মাঝেই জস বাটলার মাত্র ৫১ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত বাটলার ৬৪ বলে ১৩১ রানের এক মায়াবী ইনিংস খেলে বিদায় নেন যার মধ্যে ছিল ১২টি চার ও ৮টি ছক্কা। এটি বাটলারের টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতরান। ১৯তম ওভারে শিবম দুবে বাটলারকে আউট করার পর ঠিক পরের বলেই জ্যাকব বেথেলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ৫ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করলেও ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ব্রুক নিজের ইনিংসে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কা মারেন।
এই ম্যাচে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী এবং অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরকে বিশ্রামে রেখে যথাক্রমে সঞ্জু স্যামসন ও সূর্যাংশ শেডগেকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। অপরদিকে ইংল্যান্ড দল রেয়ান আহমেদের জায়গায় লিয়াম ডসনকে তাদের প্রথম একাদশে শামিল করেছিল। পরিসংখ্যানে নজর রাখলে দেখা যাবে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এপর্যন্ত মোট ৩৫টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়েছে যার মধ্যে ভারতীয় দল ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং ইংলিশ দল জিতেছে ১৬টি ম্যাচে। একটি ম্যাচের কোনো ফলাফল আসেনি। এর আগে ২০২২ সালের ৭ জুলাই এই সাউদাম্পটনের মাঠেই দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল যেখানে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডকে ৫০ রানে হারিয়েছিল তবে চার বছর পর এবার সেই সাউদাম্পটনেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিল ইংল্যান্ড।