
লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে গেলেন লালা। ভারতীয় টিমের হয়ে আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না মহম্মদ শামি। ৬ নভেম্বর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার এই তারকা পেসার। তবে ভারতীয় বোলিংয়ের অন্যতম এই স্তম্ভের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পাচ্ছেন না প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। তিনি মনে করছেন, টেস্ট ক্রিকেটে মহম্মদ শামির আরও কিছু দেওয়ার ছিল। একইসঙ্গে অবসর ঘোষণার আগে শামির টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটা সুযোগ না পাওয়ার হতাশাও গোপন করেননি শাস্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর গতকালই অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পর শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেন। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, এই ফরম্যাটে তিনি ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট নিয়েছেন। তবে ভারতের হয়ে তার শেষ টেস্ট ম্যাচটি ছিল ৩ বছরেরও বেশি আগে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছিলেন শামি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে শাস্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেছিলেন শামি তাঁর টেস্ট উইকেটের তালিকায় আরও ৩০-৪০টি উইকেট যোগ করবেন। তিনি বলেন, "দেশের হয়ে এত ভালো খেলা একজন খেলোয়াড়কে যখন চলে যেতে হয়, তখন খুব খারাপ লাগে। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, তাঁর মধ্যে আরও ৩০-৪০টি উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য ছিল। গত এক বছরে অবশ্যই খেলা উচিত ছিল, সম্ভবত টেস্ট ম্যাচের বোলার হিসেবেই দলে জায়গা পাওয়া উচিত ছিল শামির।"
ফিটনেসই কি আসল সমস্যা?
২০২৩-এ ODI বিশ্বকাপের পর একাধিক চোটের কারণে শামির ক্যারিয়ারে ছেদ পড়ে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই পেস বোলারের গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর হাঁটুর সমস্যায় ভুগতে থাকায় তিনি ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওডিআই সিরিজে খেলার পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাঁচটি ম্যাচই খেলেন শামি। তবে ২০২৫ সালের ইংল্যান্ড টেস্ট সফরের আগে তাঁকে ফের টিম থেকে বাদ পড়তে হয়।
শামির ফিটনেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেন, "ম্যাচে ১০ বা ১২ ওভার বল করতে না পারলে জিমে ফিট থাকার মানে কী? এখানে আপনার হয়ে একজন পরিশ্রমী বোলার বল করছে। সে আরও একবার সুযোগ না পাওয়ায় আমি হতাশ।"
প্রসঙ্গত, এই বছরের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট টিম থেকে বাদ পড়েন মহম্মদ শামি। আগরকার দাবি করেন, পেসারের ফিটনেস সম্পর্কে তাঁর কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তাঁর মনে হয়েছিল, শামি যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। এর জবাবে বাংলার হয়ে খেলা পেস বোলার জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি যদি বাংলার হয়ে চার দিনের ক্রিকেট খেলার মতো ফিট থাকেন, তবে তিনি ৫০-ওভারের ক্রিকেটও খেলতে পারবেন।