
তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যকে আঘাত করা হয়েছে। এমন অভিযোগ তুলল চেন্নাই সুপার কিংস। বুধবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ঘটনাটি ঘটেছে। সিএসকে-আরসিবি বরাবরই আইপিএলের বড় ম্যাচ। আইপিএলের ম্যাচের সঙ্গে সবসময়ই যুক্ত থাকে বিনোদন। স্টেডিয়ামে গান বাজানো হয়। এই নিয়েও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ম্যাচে যে গান বাজানো হয়েছে তাতে ধোসা, ইডলি, সাম্ভার, চাটনির উল্লেখ ছিল। তাতে ফ্র্যাঞ্চাইজির মনে হয়েছে, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যকে বিদ্রুপ করা হয়েছে।
চেন্নাই এবং ব্যাঙ্গালোরের এই দ্বৈরথ নতুন নয়, সমর্থকদের মধ্যেও রেষারেষি রয়েছে। তবে এবার সেই রেষারেষি অন্য স্তরে পৌঁছে গেল। সাধারণভাবে আইপিএল-এ এক ফ্র্যাঞ্চেইজি আরেক ফ্র্যাঞ্চেইজির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনে না। ১৯ বছরের ইতিহাসে ে ধরণের ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি।
ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছে?
গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সিএসকের সিইও কাশি বিশ্বনাথ। অভিযোগ করার কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'ডিজেরা সাধারণত থাকে হোম টিমকে সমর্থন করার জন্য। কিন্তু চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। আমাদের প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্য করা হয়। তাই আমরা বিসিসিআইয়ের কাছে আবেদন করেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে।'
যে গান নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেটি গানা আপ্পুর তৈরি। এই গান সাধারণত দুই দলের ম্যাচের সময় শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘোরে। এই পর্বের প্রথম সূত্রপাত গত বছর। চেন্নাই ম্যাচের আগে আরসিবি জীতেশ শর্মার একটি ভিডিও পোস্ট করে। সেখানে ধোসা, ইডলি, সাম্ভার, চাটনি গান গাইতে দেখা যায় বেঙ্গালুরুর উইকেটকিপারকে। তাতে চটে যায় চেন্নাইয়ের ফ্যানরা। চিপকে ফিরতি ম্যাচে জীতেশ আউট হওয়ার পর একই গান বজাযন ডিজে। এরপরই হস্তক্ষেপ করে সিএসকে ম্যানেজমেন্ট। বিপক্ষের প্লেয়ার এবং ফ্যানদের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর থেকে এই গান বাজানো বন্ধ হয়ে যায়।
কাশি বিশ্বনাথ আরও বলেন, 'সেই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট গান বাজানো বন্ধ হয়ে যায়। ডিজে বিপক্ষের প্লেয়ারদের নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারে না। আমাদের ফ্যানদের নিয়ে আমরা গর্বিত।' কিন্তু ৫ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে সেই গান। তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও চেন্নাইয়ের ডিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি, সিএসকের প্লেয়াররা আউট হওয়ার পর তিনি বিরূপ মন্তব্য করেন। বলা হয়, ডিজের ভূমিকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের মনোরঞ্জন করা। বিপক্ষের প্লেয়ারদের বিদ্রুপ করা নয়। প্রসঙ্গত, সেদিন হাই-স্কোরিং ম্যাচে ৪৩ রান চেন্নাইকে হারায় বেঙ্গালুরু।