
উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ইশান কিষাণ প্রায় দুই বছর ধরে টিম ইন্ডিয়ার দল থেকে বাইরে। ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপেও ইশান ভারতীয় দলে ছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে তাঁর খারাপ ফর্মের কারণে বাদ পড়েন। ২০২৫-২৬ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি (SMAT) ইশান নিজেকে প্রমাণ করলেন। বাদ পড়া নিয়ে দুঃখের কথা শেয়ার করেছেন তিনি।
ম্যাচের পর, ইশান কিষাণ ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ার সময় যে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন তা নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেন। ইশান কিষাণ বলেন, 'যখন আমাকে নির্বাচিত করা হয়নি, তখন আমার খুব খারাপ লেগেছিল কারণ ভাল পারফর্ম করছিলাম। কিন্তু আমি নিজেকে বলেছিলাম যে আমার সমস্ত পারফর্ম্যান্স সত্ত্বেও যদি আমি সুযোগ না পাই, তাহলে আমাকে আরও ভাল করতে হবে এবং আমার দলকে জিততে সাহায্য করতে হবে।'
ঝাড়খণ্ডের ক্যাপ্টেন ইশান কিষাণ, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির ফাইনালে হরিয়ানার বিরুদ্ধে এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে তার দলের প্রথম শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই টুর্নামেন্টটি ঈশানের জন্য বিশেষ ছিল, কারণ ফাইনালে তিনি দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়েছিলেন, যা স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসতে প্রস্তুত।
ইনিংস শুরু করার সময়, ইশান কিষাণ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব অবলম্বন করেন এবং মাত্র ৪৫ বলে তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তিনি ৪৯ বলে ১০১ রান করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার এবং দশটি ছক্কা ছিল। এটি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইশানের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তিনি তার পঞ্চম সেঞ্চুরিও করেন।
ঝাড়খণ্ড এই রেকর্ডটি তৈরি করে
ইশান কিষাণের দুরন্ত সেঞ্চুরির উপর ভর করে, ঝাড়খণ্ড ৩ উইকেটে ২৬২ রান করে, যা যেকোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে, হরিয়ানা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এবং ১৯৩ রানে অল আউট হয়। ঝাড়খণ্ড ৬৯ রানে ম্যাচটি জিতে ইতিহাস তৈরি করে।
ইশান কিষাণ এই শিরোপা জয়কে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইশান বলেন, 'এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। কারণ আমার অধিনায়কত্বে এ টিই প্রথমবারের মতো আমরা কোনও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জিতেছি। এখানে, তোমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।'
২০২৫-২৬ সালে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ইশান কিষাণ ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১০টি ম্যাচে ৫৭.৪৪ গড়ে এবং ১৯৭.৩২ স্ট্রাইক রেটে ৫১৭ রান করেছিলেন ইশান, যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি এবং দুটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল। এই পারফরম্যান্সই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। ইশান তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর, গুয়াহাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে।