Advertisement

Pakistan Cricket : ম্যাচ ফিক্সিং করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২ টেস্ট হেরেছে পাকিস্তান দল? বিরাট হইচই

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের পর। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের কয়েকজন ক্রিকেটার তাঁদের মোবাইল ফোন PCB-র হাতে তুলে দিয়েছেন।

ছবি : রয়টার্স ছবি : রয়টার্স
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 07 Sep 2026,
  • अपडेटेड 5:20 PM IST
  • ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর দলের মধ্যে যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে
  • ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্দরমহলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জল্পনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দলের আমূল রদবদল এবং এবার শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর বোর্ডের মুখপাত্র আমির মির তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই তদন্তের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও PCB আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের পর। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের কয়েকজন ক্রিকেটার তাঁদের মোবাইল ফোন PCB-র হাতে তুলে দিয়েছেন। তৃতীয় টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ফোন বোর্ডের হেফাজতেই থাকবে। তবে কোন ক্রিকেটারদের ফোন নেওয়া হয়েছে বা কেন নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। PCB-ও ফোন নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে আপাতত ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনও অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান তদন্তের বিষয়ে বোর্ড শুধু শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

PCB-র মুখপাত্র আমির মির জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। বোর্ডের নিজস্ব নিয়ম ও বিধি মেনেই পুরো প্রক্রিয়া এগোবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বক্তব্য ও অবস্থান বিবেচনা করা হবে।

তবে তদন্তের কারণ স্পষ্ট না করায় জল্পনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর দলের মধ্যে যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে, তার সঙ্গে এই তদন্তের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দুই টেস্টে হার, মাঝপথেই আমূল বদলে গেল পাকিস্তান

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হার। এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে পরাজয়। ফলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। এরপরই কার্যত রাতারাতি বদলে যায় পাকিস্তান দলের চেহারা। সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আঘা, ইমাম-উল-হক, আলি উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর। কোচিং স্টাফেও বড় পরিবর্তন করা হয়। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

Advertisement

তাঁদের জায়গায় দলে যোগ দেওয়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লাহ ফজল, যাঁরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। অন্যদিকে পাঁচ ক্রিকেটার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পেস-বোলিং অলরাউন্ডার রাজাউল্লাহ খান ও মহম্মদ ইমরান, বাঁ-হাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস, উইকেটকিপার সাদ বেগ এবং বাঁ-হাতি পেসার মহম্মদ ইমরান জুনিয়র।

ইমাম-উল-হকের চোট নিয়েও প্রশ্ন

দলের রদবদলের মধ্যেই ইমাম-উল-হকের চোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন PCB-র হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ। লর্ডস টেস্টে কাফে চোট পেয়েছিলেন ইমাম। সেই কারণে দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি তিনি।

কিন্তু ইমামের চোটের গুরুত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন আকিব। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের পেশির চোট কোনও ব্যাটারকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাটিং থেকে বিরত রাখার মতো গুরুতর হওয়ার কথা নয়। তিনি এই ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছিলেন।

আকিব জিও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইমামের চোট নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে এবং বিষয়টি তাঁকে হতাশ করেছে। তবে তিনি সরাসরি বলেননি যে ইমাম চোটের বিষয়টি সাজিয়েছিলেন।

যদিও PCB-র সোমবারের বিবৃতিতে ইমাম বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বর্তমান তদন্তটি ইমামের চোটের ঘটনা ঘিরে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের পুরনো স্মৃতি ফিরছে

নতুন তদন্ত ঘোষণার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ২০১০ সালের লর্ডস কেলেঙ্কারির স্মৃতিও ফিরে এসেছে। সেই সময় পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান বাট এবং দুই পেসার মহম্মদ আসিফ ও মহম্মদ আমির স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে ম্যাচে নির্দিষ্ট সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নো-বল করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। তিন ক্রিকেটারই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জেলও খেটেছিলেন।

তবে বর্তমান ঘটনায় সেই পুরনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে- এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। PCB-ও তদন্তকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করেনি।

গুজবে বিশ্বাস না করার বার্তা PCB-র

তদন্ত ঘোষণা করলেও বিষয়টি নিয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হয়নি PCB। বরং সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না-করা খবরকে গুরুত্ব না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তারা।

বোর্ডের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমান বা অপ্রমাণিত দাবিকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। PCB জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন তারা এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করবে না এবং সকলকে বোর্ডের সরকারি বিবৃতির উপর নির্ভর করতে বলেছে।

অর্থাৎ, আপাতত নিশ্চিত তথ্য একটাইপাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্দরমহলে শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার সঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

এদিকে ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে পাকিস্তান। তার আগেই দলবদল, কোচ বদল এবং এবার অভ্যন্তরীণ তদন্ত, সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেটের অস্বস্তি আরও বাড়ল।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement