
টিম ইন্ডিয়ায় মহম্মদ শামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ৩৬ বছরের এই তারকা পেসার প্রায় দেড় বছর ধরে ভারতীয় দলের বাইরে। চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ এখনও পাননি। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, শামির বয়সই কি তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা? তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া। তাঁর মতে, শামির ক্ষেত্রে শুধু বয়সকে দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং তাঁর ফিটনেস, চোটের ইতিহাস এবং আগের মতো গতি ও ধার ফিরেছে কি না, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু বয়সের কারণে বাদ শামি?
অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিংয়ে তরুণ বিকল্পদের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। ফলে শামির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে আকাশ চোপড়ার বক্তব্য, বয়সের সঙ্গে শামির পরিস্থিতিকে সরাসরি মেলানো ঠিক নয়। মিচেল স্টার্কের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কেন দু’জনের পরিস্থিতি আলাদা। CREX-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আকাশ চোপড়া বলেন, স্টার্ক দীর্ঘ সময় ফিট থেকেছেন এবং নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছেন। মাঠে ফিরলেই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর ফর্ম, ফিটনেস বা বোলিং নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কম ছিল।
শামির সমস্যা কোথায়?
চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর ফের ক্রিকেটে ফিরলেও পুরনো ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে উইকেট পেয়েছেন শামি। কিন্তু তাঁর বোলিংয়ে আগের মতো গতি এবং ধার দেখা যাচ্ছে কি না, সেটাই এখন নির্বাচকদের কাছে বড় প্রশ্ন। আকাশ চোপড়ার মতে, তাই শামির ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি ফিটনেস এবং বর্তমান বোলিংয়ের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিরাট-রোহিতের উদাহরণ আকাশের
শুধু বয়সের কারণে যদি শামিকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেই মনে করেন আকাশ চোপড়া। তাঁর বক্তব্য, বয়সই যদি প্রধান মাপকাঠি হত, তাহলে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো শামির চেয়ে বয়সে বড় ক্রিকেটারদেরও নির্বাচনের বাইরে থাকতে হত। ফলে কোনও ক্রিকেটারকে শুধু বয়সের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
শামির ক্ষেত্রেও বয়সকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরাই বলতে পারবেন, তাঁকে দলে না নেওয়ার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে।
১০০তম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে শামির নজির
এদিকে শামি এখনও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাননি। সম্প্রতি দুলীপ ট্রফি ২০২৬-২৭-এর ফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে খেলেছেন তিনি। এই ম্যাচটি শামির কেরিয়ারে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি ছিল তাঁর ১০০তম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ। শুধু ব্যক্তিগত মাইলস্টোন নয়, ইস্ট জোনের হয়ে ট্রফিও জিতেছেন শামি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনও সক্রিয় তিনি।
ফের টিম ইন্ডিয়ায় ঢুকতে কী করতে হবে?
এখন প্রশ্ন, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স কি শামিকে ফের জাতীয় দলে জায়গা করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট? সম্ভবত শুধু উইকেট নেওয়া নয়, নির্বাচকদের সামনে শামিকে আরও কিছু প্রমাণ করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হবে সম্পূর্ণ ফিট থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের পুরনো গতি ও বোলিংয়ের ধার দেখানো।
দীর্ঘ সময় চোটের সঙ্গে লড়াই করার পর শামি যদি ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলতে পারেন এবং তাঁর বোলিংয়ে আগের সেই ভয়ঙ্কর গতি ও নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়, তাহলে নির্বাচকদের পক্ষে তাঁর দাবি উপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে।
অভিজ্ঞতা শামির সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দরজা খুলতে এখন তাঁকে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের প্রমাণও দিতে হবে।
তাই শামির প্রত্যাবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বয়স, নাকি চোটের পর তাঁর বর্তমান ফিটনেস ও বোলিংয়ের মান- তার উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় দলের দরজায় ফের কড়া নাড়ার সুযোগ তৈরি হবে শামির সামনে।