Advertisement

মুকুলকে ক্রিকেটার বানাতে জেলও খাটতে হয়েছে তাঁর বাবাকে, কী হয়েছিল?

মুকুল চৌধুরী। বৃহস্পতিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে অসাধারণ ব্যাট করে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। তবে মুকুলের জার্নি সহজ ছিল না।

মুকুল চৌধুরী মুকুল চৌধুরী
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 10 Apr 2026,
  • अपडेटेड 8:37 PM IST
  • নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলীপ রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় বসতে থাকেন
  • পরপর ৬ বার পরীক্ষা দেন তিনি

মুকুল চৌধুরী। বৃহস্পতিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে অসাধারণ ব্যাট করে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। তবে মুকুলের জার্নি সহজ ছিল না। এই জায়গায় আসতে পারার পিছনে তাঁর নিজের ও বাবারও অনেক ত্যাগ রয়েছে। সেই তথ্য সামনে এসেছে। 

লখনউ ম্যাচের পর 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মুকুলের বাবা দলীপ চৌধুরী। তিনি জানান, প্রথম থেকে চাইতেন তাঁর ছেলে যেন ক্রিকেটার হয়। সেই মতো পরিশ্রম করেছেন তিনি। যা যা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব, সব করেছেন। এমনকী ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে গিয়ে জেলও খাটতে হয়েছে। 

দলীপ চৌধুরী বলেন, 'আমি ২০০৩ সালে স্নাতক হই। সেই বছরই বিয়ে করি। তখন থেকেই ঠিক করে নিই, আমার পুত্র সন্তান হলে ক্রিকেটার বানাব। মুকুলের জন্ম হয়। ঠিক করে ফেলি, ওকে ক্রিকেটার করার জন্য যা যা করার সব করব। মনে হয়েছিল, অনেকে যদি তা করতে পারে তাহলে আমি পারব না কেন?'

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলীপ রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় বসতে থাকেন। পরপর ৬ বার পরীক্ষা দেন তিনি। তবে সফল হননি। তারপরও ছেলেকে ক্রিকেটার করার স্বপ্ন ভুলে যাননি। সংসার চালাতে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় নামেন। ২০১৬ সালে তিনি মুকুলকে ক্রিকেট অ্য়াকাডেমিতে ভর্তি করেন। সেই শুরু মুকুলের খেলা। 

সেই প্রসঙ্গে দলীপ বলেন, 'আমি যখন ওকে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করি তখনই বুঝতে পারি, ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর মতো টাকা আমার কাছে নেই। সেজন্য নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিই। তখন ২১ লাখ টাকা পেয়েছিলাম। পরেরবার একটা হোটেলের ব্যবসা শুরু করি। সেজন্য লোন নিয়েছিলাম।'

জেলেও যেতে হয়েছিল মুকুলের বাবাকে

এদিকে লোন নিলেও তার কিস্তি সময় মতো পরিশোধ করতে পারছিলেন না দলীপ। তার জেরে তাঁকে জেলও খাটতে হয়। তিনি বলেন, 'আমি কিস্তি দিতে পারছিলাম না। জেলও খাটতে হয়।' আত্মীয় পরিজনরাও তখন তাঁর সঙ্গ দেয়নি। তাঁরা হাত ছেড়ে দেন। তিনি জানান, 'তখন আত্মীয়রা আমার সঙ্গ ছেড়ে দেয়। ওরা আমাকে পাগল বলতে শুরু করে। আমি নাকি নিজের পর এবার ছেলের জীবনও শেষ করতে চাই-এমন কথাও মুখের উপর শুনিয়েছে। তবে আমার পরিবার আমাকে উৎসাহ দিতে থেকেছে। আর আমি জানতাম, যা করছি তাতে ভুল কিছু নেই।' 

Advertisement

সব বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও, দলীপের ছেলের প্রতিভার ওপর বিশ্বাস কখনও টলেনি। তিনি জানান, 'মুকুল একদিন নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে সেটা আমি জানতাম। ও সেটা করে দেখিয়েছে...'

Read more!
Advertisement
Advertisement