Advertisement

Shoaib Akhtar : হাকিমের ওষুধ বলে ড্রাগস নিতেন শোয়ের আখতার,২০ বছর পর সত্যি সামনে

তৎকালীন PCB চেয়ারম্যান নাসিম আশরাফ জানিয়েছিলেন, ২৫ জন ক্রিকেটারের ডোপ পরীক্ষা করা হয়েছিল। দু'জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। মালয়েশিয়ার বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (WADA)-স্বীকৃত পরীক্ষাগার সেই রিপোর্ট নিশ্চিত করেছিল।

নিষিদ্ধ মাদক নেওয়ার অভিযোগ ছিল শোয়েবের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ মাদক নেওয়ার অভিযোগ ছিল শোয়েবের বিরুদ্ধে
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 15 Jul 2026,
  • अपडेटेड 4:26 PM IST
  • সেই সময় পাকিস্তান ক্রিকেট দল একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে ছিল
  • ওভাল টেস্টে বল বিকৃতির অভিযোগ, অধিনায়কত্বের সমস্যা এবং বোর্ডের অস্থিরতার মধ্যেই ভারত সফরে এসেছিল পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রাক্তন দুই তারকা পেসার শোয়েব আখতার ও  মহম্মদ আসিফকে ঘিরে নতুন করে মাদক-সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি সামনে আসায় ক্রিকেটমহলে চাঞ্চল্য। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আরভিএস মণি দাবি করেছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফ, ভারতে এলে তাঁদের সঙ্গে মাদক নিয়ে আসতেন। এই মন্তব্যে পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ANI-কে দেওয়া এক পডকাস্টে আরভিএস মণি বলেন, শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফ নাকি ভারতের পাকিস্তান হাইকমিশনারের সামনেই স্বীকার করেছিলেন যে তাঁরা মাদক নিয়ে এসেছেন। এরপর পাকিস্তান হাইকমিশনার তাঁদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি প্রায় ২০ বছর আগের, যখন ২০০৬ সালের অক্টোবরে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বড় ধাক্কা

সেই সময় পাকিস্তান ক্রিকেট দল একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে ছিল। ওভাল টেস্টে বল বিকৃতির অভিযোগ, অধিনায়কত্বের সমস্যা এবং বোর্ডের অস্থিরতার মধ্যেই ভারত সফরে এসেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগের দিন, ১৬ অক্টোবর বড় ধাক্কা খায় দল।

শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফ ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়েন। অর্থাৎ, তাঁদের শরীরে নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি মিলেছিল। এরপরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) তাঁদের প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৎকালীন PCB চেয়ারম্যান নাসিম আশরাফ জানিয়েছিলেন, ২৫ জন ক্রিকেটারের ডোপ পরীক্ষা করা হয়েছিল। দু'জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। মালয়েশিয়ার বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (WADA)-স্বীকৃত পরীক্ষাগার সেই রিপোর্ট নিশ্চিত করেছিল।

দেশে ফেরানো ও সাময়িক বরখাস্ত

নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি শরীরে জানতে পেরে PCB সঙ্গে সঙ্গে দুই ক্রিকেটারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকেও বাদ দেয়। 

শোয়েবের দাবি ছিল, 'হাকিমের ওষুধ'

যদিও সেই সময় শোয়েব আখতার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। দাবি  করেছিলেন, তিনি একজন হাকিমের দেওয়া ওষুধ খাচ্ছিলেন। ইচ্ছাকৃতভাবে পারফরম্যান্স-বর্ধক ওষুধ নেননি। তবে তদন্তে তিনি এই দাবি প্রমাণ করতে পারেননি। 

Advertisement

ন্যান্ড্রোলন স্টেরয়ডের উপস্থিতি

PCB সেপ্টেম্বর ২০০৬-এ কোচ বব উলমারের অনুরোধে প্রথমবার দলের ক্রিকেটারদের অভ্যন্তরীণ ডোপ পরীক্ষা করায়। নমুনা মালয়েশিয়ার WADA-স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানে শোয়েব ও আসিফের শরীরে  ন্যান্ড্রোলন (একটি নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড) স্টেরয়ডের উপস্থিতি ধরা পড়ে। 

তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত

তদন্ত কমিটির প্রধান শাহিদ হামিদ তখন জানিয়েছিলেন, দুই ক্রিকেটারকে নিজেদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। ডোপ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং পরীক্ষাগারের পদ্ধতি—সবই নিয়ম মেনে হয়েছে। 

দ্বিতীয় পরীক্ষার সুযোগও নেননি

পরে শোয়েব দাবি করেন, তিনি উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য, বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট এবং চোট সারাতে হাকিমের হারবাল ওষুধ খেয়েছিলেন। কিন্তু এই দাবিরও কোনও প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। তাঁদের পুনরায় ডোপ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও শোয়েব ও আসিফ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

নিষেধাজ্ঞা

১ নভেম্বর ২০০৬ PCB-র তিন সদস্যের ডোপিং ট্রাইব্যুনাল শোয়েব আখতারের উপর দুই বছরের এবং মহম্মদ আসিফকে এক বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠায়। 

বব উলমারের প্রসঙ্গ

আরভিএস মণি তাঁর পডকাস্টে আরও দাবি করেন, পাকিস্তান দলের কোচ বব উলমার যিনি ডোপ পরীক্ষা চালুর পক্ষে ছিলেন, তাঁর মৃত্যুও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হয়েছিল। উলমার ১৮ মার্চ ২০০৭ সালে জামাইকায় মারা যান। মণির দাবি, তিনি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মাদক পাচারের বিরোধিতা করেছিলেন।

Read more!
Advertisement
Advertisement