
ভারতীয় দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামির ভাই এবং রঞ্জি ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ। লখনউয়ের এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে কাইফের বিরুদ্ধে FIR দায়ের পুলিশের। ওই মহিলার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেছে মহম্মদ কাইফ। পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করে।
লখনউয়ের আশিয়ানা থানার পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ কাইফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। একইসঙ্গে তার দাদা মহম্মদ হাসিবের বিরুদ্ধেও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে।
কী অভিযোগ মহিলার?
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, ২০২০ সালে তিনি গাজিয়াবাদে থাকতেন। সেই সময় এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে মহম্মদ কাইফের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যেও বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। আর তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। মহিলার অভিযোগ, ২০২৩ সালের অগাস্টে মহম্মদ কাইফ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ওই সময় মহিলা কাইফকে জানান, তিনি আগে বিবাহবিচ্ছিন্না। একটি সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাইফ এই বিষয়গুলিতে আপত্তি না জানিয়ে তাঁকে বিয়ে করবে বলে কথা দেয়।
মহিলার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাইফ তাঁকে কলকাতার একটি হোটেলে ডেকে পাঠায়। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এরপর মহিলা যখনই বিয়ের বিষয়ে চাপ দিতে শুরু করেন, তখন কাইফ আইপিএল নিলামের পর তাঁকে বিয়ে করবে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, তিনি একটি বিমান সংস্থায় কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দাবি, কাইফ তাঁর চাকরি পছন্দ করত না। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপও দিয়েছিল।
'আইপিএল নিলামের পর দূরত্ব বাড়ে'
মহিলার অভিযোগ, আইপিএল নিলাম শেষ হওয়ার পর থেকেই কাইফ তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে। এরপর তিনি কাইফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ মে কথাবার্তার জন্য ওই মহিলাকে আমরোহায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে কাইফের দাদা মহম্মদ হাসিব তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। আমরোহা থেকে আশিয়ানায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন ওই মহিলা।
থানায় অভিযোগ, পরে DCP-র দ্বারস্থ
মহিলার দাবি, ৩১ অগাস্ট তিনি আশিয়ানা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে DCP-র কাছেও অভিযোগ জানান। তবে তাঁর অভিযোগ, তারপরও দ্রুত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তবে গতকাল রবিবার ওই মহিলার অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ প্রশাসনে তৎপরতা শুরু হয়। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশে আশিয়ানা থানার পুলিশ মহম্মদ কাইফ ও তার দাদা মহম্মদ হাসিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
DCP সেন্ট্রাল বিক্রান্ত বীর জানিয়েছেন, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশে আশিয়ানা থানায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টির আইনি তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় মহিলার করা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি। আপাতত তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মহম্মদ কাইফ ও মহম্মদ হাসিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।