
Shaheen Shah Afridi 200 KMPH Video: মাঠের ভেতর তিনি বাউন্সার আর ইয়র্কারে ব্যাটারদের স্টাম্প ওড়াতে ভালোবাসেন। কিন্তু মাঠের বাইরে যখন পাকিস্তানি সাংবাদিকরা তাঁর দিকেই বিষাক্ত ‘বাউন্সার’ ছুড়লেন, তখন দমে যাওয়া তো দূর অস্ত, সপাটে পুল শট খেলে বল গ্যালারিতে পাঠালেন পাকিস্তান ওডিআই (ODI) দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে দাপুটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সিরিজের পরবর্তী দুটি ম্যাচ আগামী ২ এবং ৪ জুন লাহোরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এই জয়ের আনন্দের মাঝেই ম্যাচ পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সে আফ্রিদির গতি বা পেস নিয়ে ধেয়ে আসে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন।
সাংবাদিক বৈঠকে এক পাক সাংবাদিক সরাসরি আফ্রিদিকে প্রশ্ন করেন, "আপনার সেই চেনা গতি (Pace) কোথায় হারিয়ে গেল? সেই স্পিড কবে ফিরবে?" এমন তীক্ষ্ণ বাউন্সার শুনে রেগে না গিয়ে প্রথমে মুচকি হাসলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। এরপরই একজন পেস বোলারের ওয়ার্কলোড, চোট-আঘাত এবং শরীরের ওপর প্রতিনিয়ত যে মারাত্মক চাপ পড়ে, তা নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় ক্লাস নিলেন শাহিন।
‘মেশিনও তো ক্ষয়ে যায়’, ক্ষোভ শাহিনের
গতির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে চোট সারিয়ে দলে ফেরা আফ্রিদি জানান, বিশ্বের সব ফাস্ট বোলারদের গতি নিয়েই মাঝেমধ্যে এমন প্রশ্ন ওঠে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ পেসার রানা তো মাত্র সাত-আটটি ম্যাচ খেলেছেন। শাহিনের কথায়, "একটা মেশিনও যদি আপনি একটানা চালাতে থাকেন, তবে সময়ের সাথে সাথে সেটাও কিন্তু ক্ষয়ে যায়।" তিনি বোঝাতে চান যে ক্রিকেটাররাও রক্তমাংসের মানুষ। তাই চোট কাটিয়ে ফেরার পর শরীরকে সময় দিতে হয়, নিজেকে আবার ‘রিলোড’ করতে হয়। ফ্রেশ বডি নিয়ে মাঠে নামলে তবেই একজন বোলার পূর্ণ শক্তি দিয়ে বল করতে পারেন।
পাক অধিনায়ক স্পষ্ট করে দেন যে দেশের হয়ে খেলার সময় সমস্ত ক্রিকেটারই নিজেদের ফিট এবং তরতাজা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এটা শুধু তাঁর একার জন্য নয়, দলের বাকি বোলারদের জন্যও সমান প্রযোজ্য। প্রত্যেকেই নিজেদের বোলিংয়ের গতি বাড়ানোর টেকনিক নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। এই মুহূর্তে কেউ টেস্ট খেলছেন, কেউ আবার ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত। তাই তিন ফরম্যাটের জন্যই আলাদা আলাদা তরতাজা বোলার তৈরি রাখা ক্রিকেট বোর্ডের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে খোদ ক্রিকেটাররা গতি পুনরুদ্ধারের জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
২০০ কিমি গতিতে বল করার কথা
ক্রিকেট বোর্ডের কড়া নজরদারির মধ্যে থাকা আফ্রিদি অবশ্য সাংবাদিক বৈঠকের একদম শেষে এক মহাবিস্ফোরক অথচ মজাদার মন্তব্য করে বসেন। সাংবাদিকদের গুগলি সামলে হাসিমুখে রসিকতার সুরে আফ্রিদি বলেন, "আপনি যখন আমায় জিজ্ঞেসই করলেন, তখন আপনার জন্য এবার থেকে আমি ২০০ KMPH গতিতে বল করার চেষ্টা করব!" অধিনায়কের মুখে এই অভাবনীয় উত্তর শোনামাত্রই গোটা প্রেস কনফারেন্স হল হাততালি আর হাসির রোলে ফেটে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে শাহিন শাহ আফ্রিদির এই চতুর ও আত্মবিশ্বাসী জবাব। নেটিজেনরা পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের এই উইট এবং রসবোধের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।