
পাকিস্তানের লেজেন্ডারি ক্রিকেটারদের নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটরি আরভিএস মানি। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ যখনই ভারতে আসতেন, তখনই নিজেদের সঙ্গে মাদক নিয়ে আসতেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের টিম মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ড্রাগ ট্র্য়াফিকিংয়ের ক্ষেত্রে আইএসআই-এর হাত ছিল।
আসলে আরভিএস রবি ছিলেন একজন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অফিসার। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ইন্টারনাল সিকিউরিটি ডিভিশনে কাজ করেছেন। এখন তিনি অবসর কাটাচ্ছেন। ২০১৩ সালের অগাস্টে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নেন। ওই সময় তিনি নগরোন্নয়ন দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছিলেন। আর সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর একটি পোডকাস্টেই তিনি ড্রাগ ট্র্যাফিকিং নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন।
এই পডকাস্টে তিনি অভিয়োগ করেন, জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ ফান্ডিং আসে মাদক পাচার থেকে। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'দেখো, সেই সময় এমন রিপোর্ট ছিল যে ক্রিকেটার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ দুজনেই পাকিস্তানের হাই কমিশনে স্বীকার করেছিলেন যে তারা নিজেদের সঙ্গে ড্রাগ নিয়ে এসেছে। এরপরই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।'
তাঁর আরও অভিযোগ, 'যখনই পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল, দল বা যেই এসেছে ভারতে, তারা ড্রাগ পাচার করেছে। নিজেরা সেবনের জন্য এগুলো আনত না। এটা অক্টোবর ১৬-তে হয়েছে। আর ঠিক তার ৬ মাস পর, মার্চ মাসে, পাকিস্তান দলের ইংলিশ কোচ বব উলামার সন্দেহজনকভাবে খুন হয়ে যান। তিনি ড্রাগ ট্র্যাফিকিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন।'
মাথায় রাখতে হবে বব উলমার ২০০৭ সালে ১৮ মার্চ মারা যান। তখন তিনি পাকিস্তান দলের কোচ ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের কাছে কিংসস্টোন, জামাইকাতে হারের পর তাঁকে হোটেলে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। আরভিএস রবির মতে, এই বিন্দুগুলিকে জুড়ে দিতে হবে। তাহলেই পুরো চিত্রটা সামনে আসবে। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের সরকারের নীতিই ছিল ক্রিকেটারদের মাধ্যমে ড্রাগ পাচার।
তিনি নিজের সময়ের কথা প্রসঙ্গে বলেন, 'জালালাবাদে ভাল ফসল হলে আমরা ভয় পেতাম যে এবার বোধহয় জঙ্গি হামলা বাড়তে পারে। জালালাবাদে বেশি আফিম ফসল হয়নি তো? নইলে আমাদের মাথা ব্যথা বাড়বে।'
পাশাপাশি তিনি ওই পডকাস্টে দাবি করেন, 'মহম্মদ আসিফ এবং শোয়েব আখতার হাই প্রোফাইল ব্যক্তি। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের নাম হয়তো সামনে আসেনি। কিন্তু পুরো টিমটাই টাকার জন্য এমন কাজ করত।'
তিনি জানান, এই সময় একাধিক রিপোর্ট দিয়েছে আইবি। এটাই ছিল আইবিএ-র কাজ। এরপর নির্দিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেই কাজ করেনি সেই বিভাগ। আর এই ঘটনা দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।