
বুধবার ক্রিকেট বিশ্বে একটি বিধ্বংসী ম্যাচ হয়েছে। T20 দেখা দর্শককূলকে একেবারে মাতিয়ে দিয়েছে এই ম্যাচ। কথা হচ্ছে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের। ২০২৭ সালে ওয়ানডে ফর্ম্যাটের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারত বুঝিয়ে দিল, ২০১১ সালের পুনরাবৃত্তি হতে পারে ২০২৭ সালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ রান করল ৭ উইকেটে। জবাবে ভারত ২ উইকেটে ৪০৬ রান তুলে জিতল। শুধু তা-ই নয়, ৩৯ বল বাকি থাকতে জিতল।
শুভমন গিলের ধ্বংসলীলা শুরু হল
আর এই ম্যাচের হিরো শুভমন গিল। গুয়াহাটির এসিএ স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভারতের জয় নিয়ে বেশ আশঙ্কাই ছিল। কিন্তু ভারত নামতেই, একেবারে মোড় ঘুরে গেল। শুভমন গিলের ধ্বংসলীলা শুরু হল। ব্যাটিং সহায়ক ফ্ল্যাট পিচে বোলারদের জন্য বিশেষ সুবিধা ছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটার শতরান করেন এবং দলকে ৪০০ রানের গণ্ডি পার করে দেন।
এমন বিশাল রান তাড়া করা ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে অধিনায়ক শুভমন গিল এবং রোহিত শর্মা সেই চাপ সামলে দুর্দান্ত ২৫৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। তাঁদের এই জুটিই ভারতের রেকর্ড গড়া রান তাড়ার ভিত তৈরি করে দেয়।
বড় রেকর্ড গড়লেন গিল
শুভমন গিল ১৩৩ বলে অপরাজিত ২৩৩ রান করেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৬৭.৬৭। অবিশ্বাস্য! ইনিংসে ২৬টি চার এবং ৮টি ছক্কা। ওয়ানডে নয়, শুভমন গিল ও রোহিত শর্মা যেন T20 খেলতে নেমেছিলেন। এই ম্যাচে নিজের ওয়ানডে কেরিয়ারের দ্রুততম শতরান করেন গিল। মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর সেটিকে তিনি দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন। ওয়ানডেতে এটি গিলের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৩ সালে হায়দরাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
গিলের দুর্দান্ত ইনিংস শুধু ভারতকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতায়নি, তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবেও জায়গা করে দিয়েছে, যিনি ওয়ানডেতে একাধিকবার ২০০ বা তার বেশি রান করেছেন। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব রয়েছে ওপেনার রোহিত শর্মার।
চাপের কথা স্বীকার করলেন গিল
ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং ছোট বাউন্ডারি থাকা সত্ত্বেও ৪০০-র বেশি রান তাড়া করার সময় ভারত যথেষ্ট চাপে ছিল বলে স্বীকার করেছেন শুভমন গিল। তাঁর মতে, পিচ যতই ব্যাটিং সহায়ক হোক বা মাঠ যতই ছোট হোক, ৪০০ রান তাড়া করা কখনও সহজ নয়। ম্যাচ শেষে গিল বলেন, 'ইনিংসের অর্ধেক সময়ে বোর্ডে ৪০০ রান দেখে আমাদের উপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। পিচ যতই ভাল হোক বা মাঠ যতই ছোট হোক, ৪০০ রান তাড়া করা কখনও সহজ নয়।'