
যুবরাজ সিং। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল রাউন্ডার। তাঁর ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে ৬ বলে ছটা ৬ মারার সেই ছবি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জীবন্ত। কিন্তু সেই যুবরাজকেই ক্যান্সারের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল। তা জয় করে আদৌ ক্রিকেট খেলতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সব কিছুকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ক্যামব্যাক করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভনের সঙ্গে পডকাস্টে বসেছিলেন তিনি। সেখানেই জানিয়েছেন, ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার সেই দিনগুলির কথা।
২০১১ সালের ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন যুবরাজ। তবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ক্লান্তি, বমিভাব এবং শারীরিক অস্বস্তি নিয়েও খেলেছিলেন টুর্নামেন্টে।এমনকী সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন।
তবে টুর্নামেন্টের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানান, হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে তাঁর টিউমার হয়েছে। জানার পর আকাশ থেকে পড়েন যুবরাজ।
মাইকেল ভনকে যুবরাজ বলেন, 'একজন খেলোয়াড় হিসেবে অসুস্থ হওয়ার কথা ভাবা যায় না। আপনি দেশের জন্য খেলবেন, এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু আমি ক্রমশ আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। তবুও খেলছিলাম। কারণ, খেলোয়াড়দের এমনভাবেই মানসিকভাবে গড়ে তোলা হয় যে তারা শরীরের সংকেত উপেক্ষা করে।'
কিন্তু তারপর আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। তাঁকে চিকিৎসকদের কথা মেনে নিতেই হয়। এমনকী চিকিৎসক তাঁকে বলেছিলেন, এভাবে চলতে থাকলে, এখন থেকেই চিকিৎসা শুরু না করলে ৩ থেকে ৬ মাসের বেশি সময়ও হয়তো আর পাওয়া যাবে না।
আর এরপরই যুবরাজ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যান এবং ২০১১-১২ সালে কেমোথেরাপি নেন। তারপর সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
যুবরাজ বলেন, 'প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল এটা মেনে নিতে যে হয়তো আর ক্রিকেট খেলতে পারব না। কিন্তু চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর আমি ঠিক করি, আমি ফিরব। তবে সেটা কেউ বিশ্বাস করেনি।'
তবে কামব্যাক করেছিলেন যুবরাজ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ১৫০ রানের ইনিংসটি ছিল ক্যান্সারের পর সবচেয়ে বড় রান।
যদিও তিনি আগের ফর্মে ফিরতে পারেননি। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ছিল অসাধারণ সাহস এবং মানসিক শক্তির উদাহরণ।