
ভুয়ো শংসাপত্র নিয়ে ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগ। সিএবির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করলেন রীতেশ তিওয়ারি। গোটা ঘটনায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জবাবও চেয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। সিএবি সভাপতির প্রতিক্রিয়া, রীতেশবাবুকে আমি বহুদিন চিনি। ২০১৭ সাল থেকে আলাপ। ক্রিকেট খেলা ভালবাসেন। সেই সঙ্গে যোগ করেছেন,'যে কেউ চাইলে তদন্ত করতে পারে'। এবার বোঝা যাক, বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগ নিয়ে কেন বিদ্ধ সিএবি? খেলাধুলোয় বয়স ভাঁড়ানো হয়ই বা কেন?
ক্রিকেটারদের বয়সে গরমিল
ক্রিকেট বা ফুটবলে বয়স ভাঁড়ানো নতুন নয়। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই নিজেদের বয়স কম করে দেখাতে চান। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরে খেলার জন্য ভুয়ো শংসাপত্র দেন অনেকেই। বয়সভিত্তিক খেলায় সুযোগ পাওয়ার জন্য এই অসদুপায়! এমনই বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে ৬২ জন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করেছিল সিএবি। এর মধ্যে রয়েছেন রোহিত যাদব ও রবি কুমার। এই দুজনের নাম মাথায় রাখুন, পুরো বিষয়টা বুঝতে কাজে দেবে।
সাসপেন্ড ক্রিকেটারদের পুরস্কার!
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের দাবি, ২০২২ সালের অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন রবি। তাঁর রেকর্ডে প্রায় ৪৫ মাসের হিসেব গরমিল। আরও এক ক্রিকেটার রোহিত যাদব ধরা পড়ার পর ভারতীয় দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
কেন সিএবির ভূমিকায় প্রশ্ন?
সেই সাসপেন্ডেড দুই ক্রিকেটার রোহিত আর রবিকেই বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করে সিএবি। মঞ্চে উঠে পুরস্কার নিয়েছেন রবি। রোহিত আসেননি। কেন অভিযুক্ত ক্রিকেটারকেই বর্ষসেরার সম্মান দেওয়া হল?
কেন তদন্ত নয়?
সিএবির ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, কেন তদন্ত করা হল না? কারা দেয় বয়সের ভুঁয়ো শংসাপত্র? মোদ্দা কথা, সাসপেন্ড করেই দায় ঝাড়তে পারে না সিএবি। এর পিছনে কোনও চক্র কাজ করছে কিনা সেটা জানাও জরুরি বলে মনে করেন কাশীপুর বেলগাছিয়ার বিধায়ক। পুরো ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করুক বলেও দাবি করেছেন। চেয়েছেন রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ।
রীতেশের কথায়,'আমার প্রশ্ন, তদন্ত কেন করলেন না? কারা বয়সের নকল শংসাপত্র দেয়? তদন্ত হোক। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত। এ দেশে ক্রিকেট ফ্যাশন নয়, প্যাশন। গরিব ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। ভুয়ো শংসাপত্র নিয়ে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অন্যদের। কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করুক। জুনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে বহু অভিযোগ পাই'।
তিনি যোগ করেন,'সচিব বাবলু কোলে জানিয়েছেন, আধার কার্ড আপডেটের মাধ্যমে পাঁচশোরও বেশি ক্রিকেটারের বয়সের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ষাটের বেশি ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড। এতদিন সিএবি কেন তদন্ত করেনি?'
দায় সৌরভেরও?
সিএবি সভাপতি হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না বলেও মনে করেন রীতেশ। তাঁর মতে,'ব্যক্তি সৌরভ নিয়ে আমি কিছু বলব না। কিন্তু উনি সিএবি সভাপতি। তাই ওঁকে তো জবাব দিতেই হবে'।
সৌরভের প্রতিক্রিয়া
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান,'রীতেশবাবুকে অনেক দিন ধরে চিনি। ২০১৭ সাল থেকে আলাপ। ক্রিকেট ভালবাসেন। ময়দানের ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখেন। এই বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল গতবছরের। এই বছরের নয়'।
বয়স-গরমিলে কী ব্যবস্থা?
বৃহস্পতিবার ইডেনে সৌরভ বলেন,'প্রথম আধার আপডেট সিস্টেম চালু করেছে বিসিসিআই। আয়োজন করা হয়েছে একটা সেমিনারও। সব রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন। পুরো ভারত জুড়ে বয়সের ভাঁড়ানোর সমস্যা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন পুরসভার মতো এখানে কলকাতা পুরসভা জন্ম শংসাপত্র দেয়। সেটা ব্যবহার করেই খেলে এসেছে ক্রিকেটাররা। বয়সের গরমিল প্রতিটা খেলাধুলার সমস্যা। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, সব খেলাতেই। আমরা বয়সের জালিয়াতি সহ্য করব না। আমার কাছে সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ'।
সিএবি কী করেছে?
সৌরভ জানান,'রোহিত যাদবের বয়সের গরমিল বিসিসিআই খুঁজে পায়নি। সিএবি খুঁজে পেয়েছিল দুমাস আগে। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি পাঠানো হয় বিসিসিআইয়ের জেনারেল ম্যানেজার অ্যাবে কুরুভিলার কাছে'। সিএবির ১০ জনের দল সবকিছু নিখুঁতভাবে যাচাই করে বলেও জানান সৌরভ। তাঁর কথায়,'গত তিন মাস ধরে এই প্রক্রিয়াটা চলছে। তা না হলে এতজন ধরা পড়ল কীভাবে? আধার আপডেট সিস্টেম সবকিছু বদলে দিয়েছে। বয়সের গরমিলের কারণে বাদ পড়াদের আর খেলতে দেওয়া হবে না। তাই অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে এমন একজন ক্রিকেটারও নেই যার বয়স নিয়ে সমস্যা আছে।