
ভারতের সিনিয়র দলের প্লেয়িং ১১-এ কিছুতেই সুযোগ হচ্ছে না বৈভব সূর্যবংশীর। আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বুধবারও জায়গা পেলেন না ১৫ বছরের বৈভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও টি২০ বিশ্বকাপজয়ী ওপেনিং ত্রয়ী সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষানের উপরই আস্থা রাখছে। যার ফলে দলে জায়গা হচ্ছে না সূর্যবংশীর। তবে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, বৈভবের ডেবিউতে যত দেরি হবে, সুযোগ পাওয়ার সময় তাঁর উপর চাপও ততই বাড়বে। আর সেটা নিশ্চয়ই ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য ভাল হবে না।
প্রসঙ্গত, এবার আইপিএল-এ দারুণ খেলেছেন বৈভব। তৈরি করেছেন একের পর এক রেকর্ড। তারপর তিনি প্রথমবার ভারতীয় দলে ডাকও পান। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টি-টোয়েন্টিতেও তিনি বেঞ্চেই বসে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে ক্রিকেট ভক্তদের মনে। এমন পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন গাভাস্কার। তিনি জানান, বৈভবের অপেক্ষা যত দীর্ঘ হবে, অভিষেকের সময় তাঁর উপর প্রত্যাশাও ততটাই বাড়বে।
সনি স্পোর্টসকে গাভাস্কার বলেন, 'ও (বৈভব সূর্যবংশী) যখনই সুযোগ পাবে, তখন তার উপর আরও বেশি চাপ থাকবে। তবে ১৫ বছর বয়সে সাধারণত চাপ নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয় না। ও জানে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।'
তবে গাভাস্কারের মতে, বৈভবের কম বয়সই তাঁর জন্য বড় সুযোগ সুবিধা এনে দেবে। তিনি বলেন, 'ও এখন ভারতীয় দলের অসাধারণ সব ক্রিকেটারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাওয়াটাই ওর জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা।'
মাথায় রাখতে হবে, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিভাবেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে ভারতীয় দল। তবে তারা এখনও পুরনো ওপেনিং কম্বিনেশনেই ভরসা রেখেছে। সেই কারণেই স্যামসন, অভিষেক ও কিষানকে আবারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বৈভবকে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ও দিকে আবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরু হওয়ার আগেই ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিয়ে সঞ্জু স্যামসনকে ফেরান টম ব্যান্টন। আর অভিষেক শর্মার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন ঈশান কিশান।
এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র ২৪ বলে ৫৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মালিকও হন। মাত্র ৭৮৫ বলেই এই রেকর্ড করে ফেলেছেন।
অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ৪৭ বলে ৬৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যার ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৯ রান করে ফেলে ভারতীয় দল। তবে এরপর ইংল্যান্ড আর রান তাড়া করতে নামতে পারেনি। টানা বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যায়।