
বিশ্বকাপ জেতার পরও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সূর্যকুমার যাদবকে। বিসিসিআইয়ের নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে অবাকই হয়েছিলেন তিনি। মনমরা হয়ে পড়েছিলেন। ক্রিকেট কি আদৌ আর খেলবেন? এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খেয়েছিল তাঁর মনে। অবশেষে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ‘স্কাই’।
সূর্যকুমার জানান, আরও দু’বছর ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন বলে ভেবেছিলেন। কারণ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে এশিয়া কাপও জিতেছিল ভারত। তাঁর অধিনায়কত্বে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজেও অপরাজিত ছিল দল। তবে বাস্তবে তা হয়নি। সূর্য স্বীকার করে নিয়েছেন, অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া তাঁর কাছে বড় ধাক্কা ছিল। তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে, এরপর প্রায় দু’মাস বাড়িতে বসে ছিলেন। আদৌ ক্রিকেট খেলবেন কি না, তা নিয়েও নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, সূর্যর ফর্ম খারাপ চলছিল ২০২৫ সাল থেকেই। ২১টি ম্যাচ খেলে তিনি মাত্র ২১৮ রান করেছিলেন। গড় ছিল ১৩.৬২। বিশ্বকাপেও দল ভালো খেললেও স্কাইয়ের ব্যাটে সেভাবে রান আসেনি। বারবার দ্রুত আউট হচ্ছিলেন তিনি। এরপরই তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইংল্যান্ড সফরের আগে শ্রেয়স আইয়ারের হাতে দলের ভার তুলে দেন নির্বাচকরা।
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার আকাশ চোপড়ার সঙ্গে কথোপকথনে সূর্যকুমার বলেন, ‘দলে নিজের নাম না দেখে আমি হেসেছিলাম। কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এমনটা করেছিলাম। যখনই কোনও চাপের পরিস্থিতিতে পড়েছি, যখন পরিস্থিতি আমার পক্ষে যায়নি, তখন আমি হেসেছি। নিজেকে শান্ত রেখেছি। অতীতে যখন ভালো করার সুযোগ পেয়েছি, সেই মুহূর্তগুলোর কথা মনে করেছি এবং কৃতজ্ঞ থেকেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি ৪০-৫০ দিন বাড়িতে বসে ছিলাম। কিছুই করছিলাম না। আসলে পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, এখন কী করব? আমি কি আদৌ খেলতে চাই? সেই সময় আমার স্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছিল। ও আমাকে বলেছিল, ‘শুধু ভাব, ২০ বছর আগে তুমি কেন এই খেলাটা শুরু করেছিলে? কারণ তুমি ক্রিকেটের জন্য পাগল ছিলে। সেই আবেগটা আবার ফিরিয়ে আনো।’
প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক আরও জানান, তাঁর পরিকল্পনা ছিল পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স পর্যন্ত ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া।
সূর্যকুমারের কথায়, ‘যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা আমিও ভাবিনি। ২০২৬ সালে আসার পর আমার মনে হয়েছিল, আগামী দু’বছর আমি এই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অলিম্পিক্স আসবে। তারপর আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সামনে আরও একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু একই সময়ে আপনি যা ভাবছেন আর অন্য ব্যক্তি যা ভাবছেন, তা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাঁদের (নির্বাচকদের) নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। কারণ আমি মনে করেছি, এটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। সেই মুহূর্তে তাঁরা যেটাকে দলের জন্য ভালো মনে করেছেন, সেটাই করেছেন। অন্য কারও নেতৃত্বে এই দল যদি ভালো করে, তাতেও আমার কোনও সমস্যা নেই।’
‘অধিনায়কত্ব চলে যাওয়া বিশ্বাস করতে পারিনি’: সূর্য
সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও বিসিসিআইয়ের পদক্ষেপটি তিনি ঠিক হজম করতে পারেননি বলে সাফ জানান সূর্যকুমার। বিশেষ করে বিশ্বকাপ জেতার পর তাঁকে কেন সরানো হল, সেটাই তাঁর কাছে বোধগম্য ছিল না। বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম, এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা তো সবে বিশ্বকাপ জিতেছি। আইপিএল আমার প্রত্যাশামতো ভালো যায়নি। আমার সঙ্গে দেখা করতে বন্ধুরা আসত, পরিবার-আত্মীয়স্বজনরা আসত। সবাই বলত, ‘এটাও একটা পরিস্থিতি। খারাপ সময় কেটে যাবে।’ তবে পরে আমি আবার একা হয়ে যেতাম।’
সূর্য জানান, দল ঘোষণার ২ থেকে ৩ দিন আগে তাঁকে ফোন করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। তবে সেসব এখন অতীত। তিনি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বলেও জানিয়েছেন স্কাই। নির্বাচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আমি প্রস্তুত। আপনারা যখন খুশি আমাকে ডাকতে পারেন। আমি যে কোনও সময় ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত। আমি খেলা চালিয়ে যাব। যখন আপনারা মনে করবেন সময়টা সঠিক, পরিস্থিতিও ঠিক—তখন আমিও প্রস্তুত।’