
পাওয়ার প্লে-তে ১১৮ রান! ধুন্ধুমার ব্যাটিং অভিষেক শর্মা আর বৈভব সূর্যবংশীর। ইতিহাস গড়েছিলেন জুটিতে। সেই জুটিই ভাঙাল চতুর্থ ম্যাচ। বূাদ বৈভব। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬০ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যের সামনে ভেঙে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং। প্রথম ওভারেই দুটো উইকেট গেল। সেখানেই শেষ জয়ের আশা। ৮৭ রানের বিরাট ব্যবধানে ভারতের হার। প্রশ্ন উঠছে, দলের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটারকেই কেন বাইরে রাখা হল? কোচ গৌতম গম্ভীর না অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার, কার সিদ্ধান্ত এটা?
গত ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেওছিলেন সূর্যবংশী। অভিষেক এবং বৈভব মিলে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তুলোধোনা করেছিলেন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে উঠেছিল ১১৮ রান। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও দলের এটাই ছিল সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে-র স্কোর। এটি রেকর্ড ছিল না, বরং প্রতিপক্ষকে ম্যাচের শুরুতেই চাপে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছিল এই ওপেনিং জুটি। অথচ পরের ম্যাচেই ভেঙে দেওয়া হল সেই জুটি। বৈভবকে বাদ দিয়ে দলে নেওয়া হল ঈশান কিশনকে।
কেন ভাঙা হল 'উইনিং কম্বিনেশন'?
প্রশ্ন অবশ্য ঈশানের যোগ্যতা নিয়ে নয়। ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁরও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বৈভবকেই বাদ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ল কেন? গত ম্যাচের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স কি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে কোনও গুরুত্বই পেল না? দলে কি পারফরম্যান্সের কোনও মূল্য নেই? রেকর্ড গড়া জুটি তৈরি করার পরেও কি কোনও তরুণ ক্রিকেটারের জায়গা সুরক্ষিত নয়?
'নির্দয়ী ক্রিকেট'
টসের সময় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার বলেছিলেন, 'আমরা কোনও খামতি রাখতে চাই না। সিরিজ জিতে গিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের অর্ধেক কাজটা এখনও বাকি। নির্দয় মানসিকতা রাখাটা জরুরি'। কথাটা শুনতে দারুণ। কিন্তু শুধু মুখে বললেই 'নির্দয়ী ক্রিকেট' খেলা যায় না। তার জন্য সিদ্ধান্তেও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। দলের লক্ষ্য যদি প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ না দেওয়া হয়, তা হলে গত ম্যাচে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করা ওপেনিং জুটিই ভাঙা হল কেন?
কোচ না অধিনায়ক, কার সিদ্ধান্ত?
প্রথম একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোচ ও অধিনায়কের যৌথ দায়িত্ব থাকে। ফলে এই পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়কও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নন। বৈভবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কি তাঁর সমর্থন ছিল? ১১৮ রান করা জুটিকে ধরে রাখা উচিত বলে কি তাঁর মনে হয়নি? অধিনায়কের কাজ শুধু টস জিতে ব্যাটিং বা বোলিং বেছে নেওয়া নয়। মাঠে দলের কৌশল এবং ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার দায়িত্বও তাঁর। নির্দয় ক্রিকেটের কথা বললে সফল ক্রিকেটারদের প্রতি সিদ্ধান্তেও সেটা প্রতিফলিত হতে হবে।
বৈভব থাকলে কী হত?
বৈভব থাকলেই যে ভারত ২৬০ রান করে ফেলত, এমন দাবি করা যায় না। তিনিও আউট হতে পারতেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি তো একটা থাকা দরকার। গম্ভীরকে বুঝতে হবে, দল তৈরি করা মানে শুধু বড় নামের ক্রিকেটারদের প্রথম একাদশে জায়গা করে দেওয়া নয়। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সকেও সম্মান জানাতে হয়।
দুর্বল বোলিং
ভারতের হারের পিছনে অবশ্য শুধু বৈভবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তই দায়ী নয়। ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্সও ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ফিলিপস এবং ব্রেসওয়েল যেভাবে রান তুলেছেন, তাতে বোলিংয়ের দুর্বলতাগুলি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে বড় রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের কাছ থেকেও জবাব প্রত্যাশিত ছিল। টিম ম্যানেজমেন্টের দাবি ছিল, ভারত যে কোনও রান তাড়া করতে পারে। তা হলে ২৬০ রানের লক্ষ্য সামনে আসতেই সেই আত্মবিশ্বাস মাঠে দেখা গেল না কেন?
শুরুতেই তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা ক্রমশ কঠিন হয়ে যায়। ভেঙে যায় ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। নিজেদের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার দরকার ভারতীয় দলের।