
বৈভব সূর্যবংশী। ক্রিকেট দুনিয়ায় মারকুটে ব্যাটার হিসেবে পরিচিত তিনি। তবে সোমবারটা ছিল তাঁর জন্য সম্পূর্ণ অন্যরকম। মাঠের মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। নিজেও জড়িয়ে পড়েছেন বাক বিতণ্ডায়। শ্রীলঙ্কা 'এ'-র বিরুদ্ধে দম্বুলায় ম্যাচের পর ভিডিও ভাইরাল হতেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, এতদিন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল বৈভবকে কীভাবে আউট করা যায়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, নির্ভীক মানসিকতা এবং বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত ক্রিকেটবোধ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু দম্বুলার ঘটনাটি প্রতিপক্ষকে নতুন একটি দিশা দেখিয়ে দিল। সোমবারের ম্যাচ শেষের ভিডিও দেখে হয়তো মুচকি হাসছেন বোলাররাও। মনে মনে বলছেন, 'যার বৈভবকেও তাহলে উত্যক্ত করা যায়।'
সোমবারের ম্যাচের সমাপ্তি ছিল নাটকীয়। নির্ধারিত ওভারে ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে গড়ায় লড়াই। তাতে টিম ইন্ডিয়ার 'এ' দল হেরে যায়। তারপরই বৈভবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার এক ক্রিকেটারের ঝামেলা হয়। একে অপরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। ঠিক কে, কী বলেছিলেন বা কার দোষ কতটা ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে বৈভব নিজেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় তারকাদের কেরিয়ারেও এমন সময় এসেছে, যখন প্রতিপক্ষ তাঁদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছে। সচিন তেন্ডুলকরকে স্লেজিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, বিরাট কোহলিও কেরিয়ারের শুরুতে এমন ঘটনার মুখে পড়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁরা সেই আবেগকে পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত করতে শিখেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি একটি পরিচিত কৌশল, যদি ব্যাট থামানো না যায়, তবে ক্রিকেটারের মনোযোগে আঘাত হানো। আর সেটাই বৈভবের সঙ্গে ঘটেছে।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি প্রথম নয়। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈভবের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা সামনে এসেছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি অনিয়ন্ত্রিত বা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী। তবে এটিও মনে রাখা দরকার যে, বৈভব এত বড় ক্রিকেটার বলেই তাঁকে এই সব পরিস্থিতির মধ্য়ে দিয়ে যেতে হচ্ছে।
এখন বৈভব শুধু একজন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার নন। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত মুখ। ক্রিকেট মাঠে তাঁর কর্মকাণ্ডের উপর প্রতিপক্ষ ও গণমাধ্যমের নজর থাকে সব সময়। ফলে প্রতিপক্ষ যদি মনে করে যে কিছু কথার মাধ্যমে তাঁর ধৈর্য বা মনোযোগে প্রভাব ফেলা সম্ভব, তাহলে ভবিষ্যতে সেই কৌশল আরও বেশি ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিকেট বোদ্ধারা দাবি করছেন, সেই জন্য দম্বুলার ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি ঝগড়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি বৈভবের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং একই সঙ্গে শেখার সুযোগ। ইতিমধ্যেই ক্রিকেট জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থেকে দ্রুত শিক্ষা নেওয়ার নজির তিনি রেখেছেন। মাঠে এমন পরিস্থিতি সামলানোও শিখতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কত দ্রুত শিক্ষা নেন এবং কীভাবে নিজের মানসিক দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন। কারণ মহান ক্রিকেটাররা শুধু রান করেই মহান হন না, তাঁরা মহান হন তখনই, যখন প্রতিপক্ষের উস্কানির জবাব তাঁরা দেন পারফরম্যান্স দিয়ে।