
৪৭ বলে ৯৬ রানের মহারাজকীয় ইনিংস। বোর্ডে ২১৪ রান। কিন্তু তারপরও হার শিকার করতে হল! আর সেই পরাজয়ের যন্ত্রণা স্পষ্ট ধরা পড়ল ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর চোখে। ম্যাচ শেষে চোখে জল তাঁর।
আসলে মুল্লানপুরের মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাত টাইটনসের বিরুদ্ধে নেমেছিল রাজস্থান রয়্যালস। সেই ম্যাচ সাত উইকেটে জিতে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে গুজরাত। তারপর ম্যাচ শেষে রাজস্থানের ডাগআউটে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায় সূর্যবংশীকে। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, চোখের জল লুকোতে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছেন তিনি।
পরে সতীর্থরা এসে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। এমনকী দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রবীন্দ্র জাদেজাকে দেখা যায় বৈভবের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। এমন সময় দলের সাপোর্ট স্টাফরাও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সূর্যবংশীর চোখ তখনও ছলছল।
মাথায় রাখতে হবে, এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন বৈভব। মাত্র ৪৭ বলে দুরন্ত ৯৬ রান করেন এই বিধ্বংসী ব্যাটার। তাঁর ইনিংসের উপর ভর করেই ২১৫ রানের বড় স্কোর তোলে রাজস্থান। শুরুতে মহম্মদ সিরাজ ও কাসিগো রাবাডার বিরুদ্ধে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করেন। কিন্তু পরে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে নেন বাঁহাতি ব্যাটার।
একসময় মনে হচ্ছিল আরও একটি শতরান আসতে চলেছে বৈভবের ব্যাট থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানে আউট হয়ে ফের নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার হন তিনি। শেষ চার ইনিংসের মধ্যে তৃতীয়বার নব্বইয়ের ঘরে থামতে হল সূর্যবংশীকে।
তবে রাজস্থানের জন্য ২১৫ রানও যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। শুভমন গিল এবং সাঁই সুদর্শনের দুরন্ত ওপেনিং জুটি ম্যাচ কার্যত কেড়ে নেন। মাত্র ৭৭ বলে ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ করেন তাঁরা। সুদর্শন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও গিল অসাধারণভাবে রান তাড়া করেন। মাত্র ৪৭ বলেই শতরান পূর্ণ করেন।
শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত। টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজস্থানের।
তবে দলের হারেও ম্লান হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য মরসুম। আইপিএল ২০২৬-এ ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেন তিনি। গড় ৪৮.৫০। অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে। মরসুম শেষ করেন অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে।
সূর্যবংশীর রেকর্ড...