
নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার জন রাইট ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের মতো সেরা অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করে তিনি ভারতীয় দলের চেহারা পরিবর্তনে সহায়ক ছিলেন। জন রাইট ২০০০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম বিদেশি কোচ হন। জন রাইটের পাঁচ বছরের মেয়াদে, ভারতীয় দল ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা টেস্ট এবং ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি সহ অনেকগুলি স্মরণীয় জয় অর্জন করেছিল। ভারতীয় দল ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল। কিন্তু তাঁকে নিয়ে অনেক বিতর্কও হয়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় অভিজ্ঞ বীরেন্দ্র সেওয়াগের সঙ্গেও তাঁর ঝগড়া হয়েছিল।
সেওয়াগের কলার চেপে ধরেন ভারতীয় কোচ
সেওয়াগ নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের বই লঞ্চ অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানিয়েছেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সেওয়াগ জানিয়েছেন যে ২০০০ সালে জন রাইট যখন টিম ইন্ডিয়ার কোচ ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। সেওয়াগ বলেন, 'কোচের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছিল। ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ চলাকালীন, জন রাইট কলার ধরে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। তারপর আমি রাজীব শুক্লার (টিম ম্যানেজার) কাছে গিয়েছিলাম এবং তাঁকে বলেছিলাম কীভাবে তিনি এমনটা করতে পারেন।'
সেওয়াগ আরও জানিয়েছেন যে তিনি পুরো বিষয়টি অধিনায়ক সৌরভকে জানান। এটাও জানান যে জন রাইট ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনও মীমাংসা হবে না। সেওয়াগ জানিয়েছেন যে পরে অবশ্য জন রাইট এসে তাঁর কাছে ক্ষমা চান। বীরু আরও বলেছেন, 'পরে সচিন বলেছিলেন যে সেওয়াগ-রাইটের এই বিষয়টি অতীতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এটা বাইরে আনা উচিত নয়। এরপর আর বিষয়টি আর ওঠেনি।
ভারতীয় দলে ভোট হত
সেওয়াগ জানিয়েছেন যে সেই সময় কে ওপেন করবেন তার জন্য ভোট হত। যাদের নামে বেশি ভোট আসত, সেই জুটি ওপেন করতে নামত। ২০০৩ বিশ্বকাপে ওপেনার হিসেবে সৌরভকে কীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেটাও সেওয়াগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'টিমে একটি চিট সিস্টেম ছিল। সব খেলোয়াড়দের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কারা ওপেন করবে? ১৪ জন খেলোয়াড় লিখেছিলেন সচিন-সেওয়াগের ওপেন করা উচিত। যেখানে একটি চিটে লেখা ছিল সচিন-গাঙ্গুলি ওপেন করবেন।'