
বৃহস্পতিবারের টানটান সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়েছে ভারত। আর মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ের এই ম্যাচে জেতার পরই বেজায় খুশি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি জানান, ভারতে বিশ্বকাপ খেলা এবং এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া খুবই দারুণ অনুভূতি। বিশেষত, আহমেদাবাদে ফাইনাল খেলারা ছাড়পত্র পেয়ে ভাল লাগছে।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে সূর্ব বলেন, 'এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি। ভারতে খেলা, এই অসাধারণ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুভূতি অসাধারণ। এখন ফাইনালের জন্য আহমেদাবাদে যাব। সেটাও আমাদের সকল প্লেয়ারদের জন্য স্পেশাল মোমেন্ট।'
সঞ্জুকে নিয়ে কী বললেন সূর্য?
সেমিফাইনালে ৮৯ রানের একটা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন সঞ্জু স্যামসন। আর তাঁকে নিয়েও বেজায় খুশি সূর্য। তিনি বলেন, 'যখন ও ব্যাট করতে নামছে, তখন থেকেই জানত যে ওকে কী করতে হবে। উইকেট ভাল ছিল। তাই যখনই উইকেট পড়েছে, ও নিজেকে সামলেছে। ও তেমনভাবেই ব্যাট করেছে, যেমনটা দলের প্রয়োজন। এত বছর ধরে ও যে পরিশ্রমটা করে এসেছে, সেটার ফল মিলবে।'
বুমরা এবং অন্যান্য বোলাররাই ম্যাচ ঘুরিয়েছে
সূর্যকুমার জানিয়েছে যে ভারতীয় বোলাররা অসাধারণ একটা কামব্যাক করেছে। তাঁদের জন্যই ঘুরে গিয়েছে ম্যাচ। তিনি বলেন, 'জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং এবং অন্যান্য বোলাররা যেভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে, সেটা ছিল অসামান্য। আমরা জানি বুমরাহ বছরের পর বছর দেশের জন্য ঠিক কী করছে। ও আজও ঠিক তেমনটাই করেছে। আমাদের ম্যাচটা বাঁচিয়ে দিয়েছে।'
মাথায় রাখতে হবে, এই ম্যাচে ১৮ ওভারে বল করতে এসে মাত্র ৬ রান দিয়েছিলেন বুমরাহ। এছাড়া অক্ষর প্যাটেলের ক্যাচ এবং ১৯ তম ওভারে হার্দিকের ৯ রান দেওয়াটাও ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিল।
কেন শিবম দুবেকে উপরে পাঠানো হয়?
এই ম্যাচে হঠাৎই ভারতের ব্যাটিং অর্ডার শাফল করা হয়। উপরে ব্যাট করতে পাঠান হয় শিবম দুবেকে। আর টিম ম্যানেজমেন্ট কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটাও জানান সূর্য। তিনি বলেন, 'নম্বর ৩ পর্যন্ত সব কিছু ফিক্স করা ছিল। আমরা কোনও বদল করতে চাইছিলাম না। তবে যখন দেখলাম যে রাশিদ একদিক থেকে বল করছে, তখন শিবম দুবেই ছিল আমাদের কাছে সেরা বিকল্প। যদি আমি গত ম্যাচে ৫০ বলে ১০০ রান করতাম, তাহলেও দলের জন্য এই পরিবর্তনটা প্রয়োজন ছিল।
নার্ভাস ছিলেন সূর্য
তিনি স্বীকার করে নেন যে এই ম্যাচে কিছু সময় তিনি অত্যন্ত নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। সূর্য বলেন, 'আমি অত্যন্ত নার্ভাস ছিলাম। তখন কেউ যদি আমার হার্ট রেট চেক করত, তাহলে দেখা যেত ১৬০ থেকে ১৭৫। কিন্তু এটা খেলারই অংশ।'
তাঁর আরও বক্তব্য, 'যখন আমরা ওয়ার্মআপ করতে নেমেছি, তখনই ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মাঠ ভরে গিয়েছে। এটাই দেখিয়ে দেয় যে সকলেই চেয়েছে ভারত ম্যাচটা জিতুক। আর আশা করছি ফাইনালের আগে আমরা তাদের একটা সেরা ম্যাচ উপহার দিয়েছি।'