
দলের নাম কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু বর্তমানে এই আইপিএল দলে নেই কোনও বাংলার ক্রিকেটার। আর এই বিষয়টা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন খোদ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমার মনেও এই নিয়ে ভীষণ বড় ক্ষত রয়েছে বলতে পারেন। আবার অভিযোগ রয়েছে বলেও বলতে পারেন।'
তবে তিনি এর জন্য সরাসরি কেকেআর-কে দায়ী করেননি। বরং এর পিছনে পূর্বতন রাজ্য সরকারের (তৃণমূল সরকারের) ব্যর্থতা রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমাদের রাজ্যের প্রচুর ব্যর্থতা। দীর্ঘদিন ধরে আগের সরকার ক্রিকেটার হোক, ফুটবলার হোক, অ্যাথলিট হোক, তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি। যার ফলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এক্সপোজার দরকার, সেটা পাওয়া যায়নি।'
প্রসঙ্গত, কলকাতা নাইট রাইডার্সের শুরুর বছর অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর ঋদ্ধিমান সাহা, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, দেবব্রত দাস এবং মনোজ তিওয়ারি এই দলে খেলেছেন। কিন্তু এখন এই দলে নেই কোনও বাংলার ক্রিকেটার। আর বাংলার ক্রিকেটারদের এহেন হালের জন্য তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী।
তাঁর অভিযোগ, 'যে কোনও খেলোয়াড় বড় হওয়ার সময়ই তাঁর সাপোর্ট দরকার হয়। সরকারের সাহায্য দরকার হয়। কিন্তু সরকার সাপোর্ট দেয়নি। খেলো ইন্ডিয়া থেকে বঞ্চিত করেছে। বিভিন্ন নিউট্রিশনাল যে সাপোর্ট দিতে হয়, বিভিন্ন প্রফেশনাল সাপোর্ট দিতে হয়— সেই কাজগুলো থেকে রাজ্য সরকার দূরে থেকেছে। রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী, তিনি বিনোদন জগতে বেশি থেকেছেন ক্রীড়া জগতের থেকে। এই কারণেই সমস্যা হয়েছে। আর তার জন্যই আজকে আমাদের কোনও ক্রিকেটার পর্যন্ত নেই কেকেআর-এ।'
তাই কেকেআর-এ বাঙালি ক্রিকেটার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে 'উদ্যোগী' হবেন। এটা তাঁর 'প্রায়োরিটি' বলে জানালেন ইন্দ্রনীল।
পাশাপাশি তিনি বলেন, 'প্রতি জেলাতে যাতে পর্যাপ্ত ক্রীড়া পরিকাঠামো থাকে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জেলার ক্রীড়াতে যাঁদের ইন্টারেস্ট আছে, যাঁরা আগামিদিনে খেলোয়াড় হতে চায়, তাঁরা যাতে সুযোগ সুবিধা পায়, তার জন্য আমরা বাংলার জেলাগুলোতেও বিশেষ নজর দেব।'
এছাড়া তিনি জানালেন, প্রত্যেক জেলাতে তিনি সরাসরি যাবেন। সেখানে কীভাবে স্পোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলতে পারা যায়, সেটাও দেখবেন। পাশাপাশি সেখানকার ক্রীড়া অনুরাগীদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, 'খেলার ময়দানে রাজনীতি থাকতে পারে না। খেলার ময়দানে দীর্ঘদিন ধরে দখলদারি চলেছে। রাজনীতি চলেছে। এখানে সিন্ডিকেট চলেছে। এসব হবে না। খেলার ময়দানে খেলা হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে। রাজনীতির ময়দানে রাজনীতি করবে।'
সবশেষে মেসি কাণ্ড নিয়েও মুখ খুলছেন বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, 'মেসি কাণ্ডের ফাইল খোলা হয়েছে। সেখানে যারা ১০ টাকায় জলের বোতল ১০০ টাকায় বেচেছে, যারা ১০০০ টাকার সিট ১৫০০০ টাকায় বেচেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। আইন, আইনের মতো চলবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। যত বড়ই তিনি প্রাক্তন নেতা, মন্ত্রী হোন, তারা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।'