
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই ক্রমশ কঠিন হচ্ছে ভারতের জন্য। গত মরসুমে ভারতের টেস্ট দল ফাইনালে যেতে পারেনি। আর এবার একের পর তারকার অবসর নেওয়া অবস্থা আরও কঠিন করে দেয়। এর মধ্যেই ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর ভারতের সামনে পরপর ম্যাচ জেতা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।
খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও হাল ছাড়তে নারাজ ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১ ম্যাচের সিরিজ খেলতে নামার আগে সেই প্রত্যয়ের কথাই শোনা গেল গম্ভীরের মুখে। তিনি বলেন, 'আমরা সবসময়ই আশাবাদী। ফাইনালে ওঠার সুযোগ যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ আমরা আশাবাদীই থাকি। আমাদের দলের খেলোয়াড়দের প্রতিভা সম্পর্কে আমরা জানি। আমরা যে 'ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ' জিততে পারি—এতে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। শুধু আমি নই, ড্রেসিংরুমের সবাই এমনটাই বিশ্বাস করে। মাঝেমধ্যে হয়তো কোনো একটা সিরিজ খারাপ যেতেই পারে, কিন্তু আমাদের দলের প্রতিভা এবং সাফল্যের প্রতি আমাদের যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি সচেতন।'
বর্তমানে টেবিলের ছয় নম্বরে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। এরপর নভেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে আরও একটি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলা হবে।
কী ভাবে ভারত ফাইনালে উঠতে পারে?
জয়ের হার ৭০%-এর উপরে তুলতে হবে। এখন ৫২ পয়েন্ট আছে। আর ৯ ম্যাচে যদি ৭ জয় + ১ ড্র হয় (৮৮ পয়েন্ট), মোট হবে ১৪০/২১৬ = ৬৪.৮% PCT। ৮ জয় হলে PCT দাঁড়াবে ∼৬৮.৫%, যা গত তিন WTC-তে ফাইনালের কাট-অফ ছিল। শ্রীলঙ্কায় ২-০ বা অন্তত ১-০। শ্রীলঙ্কা এখন ৬৬.৬৭% নিয়ে চার নম্বরে, ওদের হারালে সরাসরি পয়েন্ট কাটা যাবে। নিউজিল্যান্ডে ২০১৯-এর পর ভারত জেতেনি, কিন্তু এবার ১-১ ড্রও ক্ষতিকর — কারণ NZ এখন ৭৭.৭৮% নিয়ে দুই নম্বরে।
ওভাররেটের দিকে নজর রাখতে হবে
যদি ভারত ৬টা ম্যাচ জেতে তা হলে অন্তত ২ট ম্যাচ ড্র করতে হবে। তখন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডকে অন্তত ২টা সিরিজ হারতে হবে। তবে অবশ্যই স্লো ওভার রেটের দিকে চোখ রাখতে হবে। স্লো ওভাররেট হলে পয়েন্ট কাটা যাবে ভারতের। সমস্যা সেক্ষেত্রে আরও বেড়ে যাবে।