
আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র Cape Verde, জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ২৯ হাজার। অথচ এই ‘মিনোজ’রাই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লিখে ফেলল ইতিহাস। রাউন্ড অফ ৩২-এ গতবারের চ্যাম্পিয়ন Argentina-এর বিরুদ্ধে ১২০ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াই শেষে ৩-২ গোলে হার। তবে তার থেকেও বড় কথা হল, দুইবার পিছিয়ে গিয়েও গোল করে ম্যাচে ফেরত আসা। হারলেও তাই কেপ ভার্দে জিতে নিল কোটি কোটি হৃদয়।
গ্রুপ পর্বের অপরাজিত চমক
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসেই কেপ ভার্দে হয়ে উঠেছিল ‘গ্রুপ এইচ’-এর চমক। Spain-এর সঙ্গে ০-০ ড্র, দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Uruguay-এর বিপক্ষে ২-২ ড্র, আর সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। তিন ম্যাচে অপরাজিত, গোল পার্থক্য শূন্য — ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে। এটাই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউটে যাওয়ার রেকর্ড।
মিয়ামির সেই ১২০ মিনিট
Lionel Messi-র ২৯ মিনিটের গোলে পিছিয়ে পড়েও দমেনি ব্লু শার্করা। ৫৯ মিনিটে Deroy Duarte-র গোলে সমতা ফেরায় তারা। এরপর গোটা ম্যাচে আর গোলমুখ খুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ রুখে গিয়েছেন গোলকিপার ভোজিনহা ও গোটা ডিফেন্স।
অতিরিক্ত সময়ে Lisandro Martinez-এর গোলের পরেও ১০৩ মিনিটে Sidny Lopes Cabral-এর বাঁকানো শটে ২-২। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে স্বপ্নভঙ্গ কেপ ভার্দের। ম্যাচের পর FIFA-র ভিডিওতে ধরা পড়ে খেলোয়াড়দের চোখের জল, গ্যালারিতে কান্নায় ভেঙে পড়া সমর্থক, আর কোচিং স্টাফদের বুকে জড়িয়ে ধরা দৃশ্য।
কেন এই অভিযান স্মরণীয়?
* অপরাজিত ৯০ মিনিট: বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের একটিতেও নির্ধারিত সময়ে হারেনি।
* গোলমেশিন মেসিকে রুখে দেওয়া: টুর্নামেন্টে টানা ৭ ম্যাচে গোল করা মেসিকে দ্বিতীয়ার্ধে আটকে রেখেছিল কেপ ভার্দের রক্ষণ।
• নায়কের জন্ম: Kevin Pina, Hélio Varela, Deroy Duarte, Sidny Lopes Cabral — চারজনই করলেন প্রথম বিশ্বকাপ গোল।
* আফ্রিকান গর্ব: গ্রুপ পর্বে ১০ আফ্রিকান দলের ৯টিই নকআউটে যায়, যার মধ্যে কেপ ভার্দে সবচেয়ে বড় চমক।