
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আমেরিকার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক ছাপিয়ে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যার বিচারে পর্তুগিজ তারকাকে পেছনে ফেলে দিলেন আমেরিকান তারকা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করল আমেরিকা। যা টুর্নামেন্টে ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন পুলিসিক। প্রমাণ শুধু করলেন না, ঘরের মাঠে প্রায় একাই ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন। তবে শুধু এবারের বিশ্বকাপে নয়, ২০২২ বিশ্বকাপে আমেরিকা তিনটি গোল করেছিল। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই হয় নিজে গোল করে অথবা অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই তারকা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পুলিসিকের এই অ্যাসিস্টটি প্রতিযোগিতায় তাঁর চতুর্থ গোল অবদান। সেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অ্যাসিস্ট ২টো। পর্তুগিজ তারকা খেলেছেন ২২টি ম্যাচ। পুলিসিকের খেলা ম্যাচের সংখ্যা মাত্র ৫।
এর পর তিনি তাঁর দেশের কিংবদন্তি ক্লিন্ট ডেম্পসির রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন। ল্যান্ডন ডোনোভানের চেয়ে মাত্র একটি গোলে পিছিয়ে আছেন। তা সত্ত্বেও, পুলিসিকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মাত্র ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। তাঁকে রুলে নেওয়া হয়। পুলিসিকের ফিটনেস সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে এই ঘটনা।
ম্যাচ শেষে আমেরিকার কোচ পচেত্তিনো যদিও আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটখাটো সমস্যা ছিল, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত সতর্কতার জন্য। ম্যাচ শেষে পচেত্তিনো জানান, 'ওর কাফ মাসলে একটি লাথি লেগেছিল। প্রথমার্ধের শেষের দিকে সে কাফ মাসলে টান অনুভব করতে শুরু করে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি, আর হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু আমরা আশা করছি এটা বড় কোনো সমস্যা নয়, পরের ম্যাচেও খেলতে পারবে।'
পুলিসিক বলেন, 'প্রথমার্ধে আমি হালকা একটা লাথি খেয়েছি। তবে আমি সত্যিই আশা করছি যে এটা তেমন গুরুতর কিছু নয়। আজ আমি কিছুটা ভেবে চিন্তে খেলার চেষ্টা করছি, তবে আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমি ঠিক হয়ে যাব। আমার পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা। তবে আগেও আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই আমি আশাবাদী।'
শুক্রবার সিয়াটলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমেরিকার পরবর্তী ম্যাচ, যেখানে পুলিসিক বিশ্বকাপ রেকর্ডে আরও কিছু যোগ করার চেষ্টা করবেন।