
আসন্ন ডুরান্ড কাপের আগে চরম ডামাডোলে পড়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলি। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের গাফিলতির জেরে বিদেশি ফুটবলারদের ছাড়পত্র এখনও এসে পৌঁছয়নি। যার ফলে নতুন মরসুম শুরুর আগে দল গঠন ও অনুশীলন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ক্লাবগুলি।
আগামী ২৫ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে ডুরান্ড কাপ। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে বিদেশি খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেডারেশন তা ক্লাবগুলিকে পাঠায়। সেই ছাড়পত্র নিজেদের দেশের দূতাবাসে জমা দিয়ে তবেই খেলোয়াড়রা ভিসা পান। ভিসা পেতে সাধারণত অন্তত ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু ক্লাবগুলির অভিযোগ, ফেডারেশন কর্তারা বিশ্বকাপ দেখতে বিদেশে থাকায় এই জরুরি কাজটি আটকে রয়েছে। ফলস্বরূপ, ভিসা না আসায় বিদেশি ফুটবলাররা ভারতে আসতে পারছেন না।
ক্লাবগুলি ডুরান্ড কাপের অন্তত ১০ দিন আগে থেকে অনুশীলন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশিদের হয়তো কোনও অনুশীলন ছাড়াই সরাসরি মাঠে নামতে হতে পারে। ক্লাবগুলি ফেডারেশনকে একাধিক চিঠি দিলেও কোনও উত্তর মেলেনি। ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর কর্তারা দেশে ফিরলে তবেই হয়তো জট খুলতে পারে।
সমস্যা আরও গভীরে। আইএসএল এবং ডুরান্ড কাপে কতজন বিদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো যাবে, তা নিয়েও ফেডারেশন এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশিকা দেয়নি। ফলে নতুন বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মতো প্রথম সারির দলগুলি। সব মিলিয়ে, মরসুমের শুরুতেই ভারতীয় ফুটবলে এক চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একই গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট
এবারও ডুরান্ড কাপেই (Durand Cup 2026) হতে চলেছে মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby)। বুধবার ডুরান্ড কাপের আয়োজকদের পক্ষ থেকে গ্রুপবিন্যাসের কথা জানানো হয়েছে। গ্রুপ এ-তে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ছাড়াও আছে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স (CISF Protectors) ও সাউথ ইউনাইটেড এফসি (South United FC)। অন্য গ্রুপগুলিতে কারা আছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি। কবে কোন দলের ম্যাচ এবং কলকাতা ডার্বি কবে, সে বিষয়েও এখনও কিছু জানানো হয়নি। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ম্যাচ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। এই কারণে ফুটবলপ্রেমীরা ডুরান্ড কাপে কলকাতার দুই প্রধানের ম্যাচের তারিখ জানার অপেক্ষায় আছেন।