
ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব ছেড়েই দিলেন অস্কার ব্রুজো। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লাল-হলুদ কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানালেন স্প্যানিশ কোচ। জয় পেলেও শেষ ম্যাচের আগেই অস্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকছেন না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কর্তারা চেয়েছিলেন তাঁকে রেখে দিতে। তবে সমর্থকদের আশঙ্কা সত্যি হল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় লাল-হলুদ সমর্থকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন অস্কার। সেখানে তিনি লেখেন, 'অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে আমি এই কথাগুলো আপনাদের লিখছি। আমাগো ফ্যান্স, আপনারাই ইস্টবেঙ্গলের হৃদয় ও আত্মা। এই মরসুমটি আমি সারাজীবন মনে রাখব। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয় ছিল এক ঐতিহাসিক জয়, এবং সিনিয়র দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি এই সাফল্যের সম্পূর্ণ দাবিদার। তাঁরা অসাধারণ পেশাদার এবং তার চেয়েও বড় কথা, অসাধারণ মানুষ। আমরা আরও দুটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। আইএফএ শিল্ড এবং সুপার কাপ। দুর্ভাগ্যবশত, দুটি ম্যাচই টাইব্রেকারে হেরে যাই। সেই হার গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল, কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে উঠে যে চরিত্র, দৃঢ়তা এবং মানসিক শক্তি এই দল দেখিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইএসএল জয় করেছে, তা আমাদের সকলের গর্বের বিষয়।'
তিনি আরও লেখেন, 'মরসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩১ মে অনেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফুটবল অনেক সময় জীবনের মতোই। স্থিতিশীলতা এবং সময়োপযোগী দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনও সফল ক্রীড়া প্রকল্প সাফল্য অর্জন করতে পারে না। তাই, এক মাস আগে সাংবাদিক সম্মেলনে আমি, আদ্রিয়ান এবং জ্যাভিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা আর ইস্টবেঙ্গলে কাজ করব না।'
এই পরিক্রমার অংশ হওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়, স্টাফ, সদস্য,ইমামি, ক্লাব কর্মকর্তা এবং সমর্থকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা আপনাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, এবং আশা করি আমরাও আপনাদের গর্ব করার মতো কিছু ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
ইস্টবেঙ্গল সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।'
ঠিক কী কারণে ছাড়লেন অস্কার?
সূত্রের খবর, দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর, চুক্তি নবিকরণ করতে অনেক বেশি টাকা চেয়েছিলেন অস্কার। ভারতীয় ফুটবলের এখন যা অবস্থা, তাতে যা সম্ভব ছিল না লাল-হলুদের পক্ষে। শুধু তো অস্কার বা তাঁর সাপোর্ট স্টাফ নয়, অন্য ফুটবলরদের চুক্তিও বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপ আরও বাড়বে।