
২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল। কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উড়ল লাল-হলুদ আবির। স্টেডিয়ামের ব্যালকনিতে ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসলেন রশিল, মিগুয়েলরা। গোটা মাঠে জুড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। আইএসএল জয়ের পর ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতেই সুসজ্জিত ট্রফি।
লাল-হলুদ আবির মেখে ইমামি কর্তা আদিত্য আগরওয়ালকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন ক্লাব শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। খারাপ সময়ে ক্লাবের পাশে থাকার জন্য ইমামির প্রশংসা করলেন তিনি। তবে কোচ অস্কার কুঁজো থাকবেন কিনা, বা ইমামি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আর জুড়ে থাকবে কিনা এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাইলেন না দুজনের কেউই।
ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ইমামি কর্তা আদিত্য আগরওয়ালকে পাশে নিয়ে বললেন, 'আমরা ২২ বছর ধরে বহু ট্রফি পেয়েছি, তবে লিগটা পায়নি। আর্সেনালের একটা যোগসূত্র ছিল, ওরাও পেল ২০০৪ সালের পর আমরাও পেলাম এই মুহুর্তে ইস্টবেঙ্গল জনতার মনে রাখা উচিত সারাজীবন যে ক্লাব যখন খারাপ সময়ে ছিল তখন তারা পাশে দাড়িয়েছিলেন। আমি দুই বছর আগে বলেছিলাম আইএসএল জিতব। আইএসএল কিন্তু ঘরে তুললাম আমরা।' পাশাপাশি তিনি জানালেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটেয় এআইএফএফ -এর তরফে ক্লাবের মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে।
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা আনন্দে লাফাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যৎ কী? আইএসএল কি পরের মরসুমে হবে? এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন খোদ এআইএফএফ সভাপতি। তিনি আশাবাদী হলেও, অনেক সমস্যা রয়েছে। স্পন্সরের ব্যাপারটা যেমন চূড়ান্ত করতে হবে, তেমনই ক্লাবের লভ্যাংশ কতটা থাকবে সেটাই বড়ট প্রশ্ন। আর এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পেলে ক্লাবগুলো রাজি হবে কিনা সন্দেহ। ফলে সংশয় রয়েছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েই। এই সমস্যা মেটাতে শনিবার বৈঠক রয়েছে। যা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ফুটবলের ক্ষেত্রে।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে কল্যাণ বলেন, 'আমরা সবসময় বলেছি ফুটবল হবে, কোনদিন AIFF বলেনি, কোনদিন আমি বলিনি, ফুটবল হবে না। সুপার কাপ হয়েছে, লিক হয়েছে, সন্তোষ ট্রফি হয়েছে, আই আই ডব্লিউ দুদিন আগেই ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আপনি দেখুন কোন টুর্নামেন্ট। একুশটা টুর্নামেন্ট সারা বছরে আ হয়েছে এবং এত ম্যাচ একুশো ম্যাচ আছে। এত ম্যাচ কোনদিন হয়নি ভারতবর্ষের ফুটবলের ইতিহাসে।'
ইস্টবেঙ্গলের এই জয় নিয়েও মুখ খুলেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, 'যখনই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেখানে একটা ভারসাম্য থাকা ভালো। যদি কোনো একটা ক্লাব বারবার জিততে থাকে এবং অন্য ক্লাব যদি ক্রমাগত নিচের দিকে থাকে তাহলে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য থাকে না। ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ডার্বি বিশ্বের পাঁচটা ডার্বির মধ্যে অন্যতম। এখানে কোটি কোটি মানুষের উৎসাহ থাকে এই ম্যাচের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। খুব ভালো লাগছে বিগত গত কয়েক বছর ধরে ইস্টবেঙ্গল যেরকম ভাবে লিগের টপে আসতে কোনো না কোনো কারণে ব্যর্থ হচ্ছিলো। আজকে জেতাতে বাংলার ফুটবল অত্যন্তভাবে উপকৃত হবে কারণ মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের কম্পিটিশন যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বাংলার ফুটবল বেঁচে থাকবে ততদিন ভারতের ফুটবল বেঁচে থাকবে।'