
২০২২ সালের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2022) আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের খরা কাটিয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে বিশেষ বদল নেই। একই ম্যানেজার, একই ক্যাপ্টেন, গোলকিপারও অপরিবর্তিত, ডিফেন্স, মিডফিল্ড, কোথাও কোনও বদল নেই। শুধু সালটা বদলেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তাহলে লিওনেল মেসির হাতেই উঠতে চলেছে?
২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার এই টিমই কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল
১১ জুন শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপের আসর। ভারতে সব খেলাই দেখা যাবে মধ্যরাত কিংবা ভোররাতে। ২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার এই টিমই কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের মাত্র ৯ জন খেলোয়াড় এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, যিনি ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। নতুন মুখদের মধ্যে থাকা ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে পায়ের পেশির চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে তাঁকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে আর্জেন্টিনা।
তবে ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনার প্লাস পয়েন্ট হল, প্রায় সব তারকা ফুটবলারই ২০২২ সালের বিশ্বকাপ টিমে ছিলেন। মাত্র ৩ জন প্লেয়ার এ বারে নতুন, যাঁদের বয়স ২৫ বছরের কম। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতদের মধ্যে অন্যতম হলেন আলেহান্দ্রো গার্নাচো। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ঝলমলে প্রতিভার চেয়ে অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্যতার উপরই বেশি ভরসা রেখেছেন।
মাস্তান্তুয়োনোর জায়গা হয়নি টিমে
দলে জায়গা হয়নি আরেক তরুণ প্রতিভা, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোরও। রিয়েল মাদ্রাদিদে যোগ দেওয়া এই ১৮ বছর বয়সি ফুটবলারের বাদ পড়ার পিছনে তাঁর কম বয়স একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সুযোগ পেলে তিনি মুগ্ধ করা পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ডেবিউ করা প্লেয়ার হিসেবে নজর কেড়েছিলেন মাস্তান্তুয়োনো এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠে তাঁর বোঝাপড়াও বেশ ভাল।
আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সবচেয়ে আলোকিত নাম মেসি
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি। তবে কাতার বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল, শুধু মেসির উপর নির্ভর করে নয়, দলের অন্য খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নেওয়ার পরই আর্জেন্টিনার পারফর্ম্যান্সে উন্নতি হয়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে প্রায় প্রতিটি আক্রমণই মেসিকে ঘিরে গড়ে উঠছিল, ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ বেশ একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়ার পর সেই দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এবার তাই ২৬ বছর বয়সি জুলিয়ান অ্যালভারেজ ও ২৮ বছর বয়সি মার্টিনেজের উপরও বড় দায়িত্ব থাকবে। দু’জনেই ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপজয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণের অন্যতম ভরসা হতে পারেন।
অ্যালভারেজ ও মার্টিনেজের সুবিধা
মেসিকে ঘিরে প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত মনোযোগের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন জুলিয়ান অ্যালভারেজ ও মার্টিনেজ। কারণ মেসিকে আটকাতে গিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের নজর প্রায়শই তাঁর উপরই কেন্দ্রীভূত থাকে, ফলে অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি হয়। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে অ্যালভারেজ এবং ইন্টার মিলানের হয়ে মার্টিনেজ নিয়মিত গোল করে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। গোলমুখে সুযোগ পেলে তাঁরা দ্বিতীয়বার ভাবেন না এবং প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর ক্ষমতা দু’জনেরই অসাধারণ।
মাঝমাঠ থেকে তাঁদের জন্য আক্রমণ তৈরি করার দায়িত্বে থাকতে পারেন এনজো ফার্নান্ডেজ। চেলসির এই মিডফিল্ডার নিখুঁত পাস এবং খেলা নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। ফলে মেসি যদি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিজের দিকে টেনে রাখতে পারেন, তাহলে আলভারেজ ও মার্টিনেজের সামনে গোল করার আরও বেশি সুযোগ তৈরি হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই চার ফুটবলারের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের উপর।