
প্রথম ৩০ মিনিট দেখে বোঝার উপায় নেই যে ব্রাজিল (Brazil) খেলছে। বরং রাত জাগা চোখ কচলে দেখতে হবে ঠিক দেখছি তো? গোটা মাঠ জুড়ে তখন লাল-সবুজের দাপট। একটার পর দ্বিতীয় পাস খেলতে গেলেই ভুল করে ফেলছেন ব্রাজিল ফুটবলাররা। একেবারে অগোছালো লাগছিল কার্লো আনসালোত্তির দলের। কোথায় গেল সেই ছন্দ?
কীভাবে গোল খেল ব্রাজিল?
এর মধ্যেই গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। চাপে পড়ে যান সমর্থকরা। ব্রাহিম দিয়াজ ইসমাইল সাইবারিকে একটি নিখুঁত থ্রু পাস দিয়ে সুযোগ তৈরি করেন। সাইবারি এগিয়ে আসা ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসনের মাথার উপর দিয়ে বলটি লব করে গোল করেন, ফলে মরক্কো ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। তবে সেই লিড খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। গোল শোধ করে দেন ভিনিশিয়াস জুনিয়র। একক দক্ষতায় তাঁর গোল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বলে মনে করছেন অনেকেই।
যেভাবে ম্যাচে ফেরালেন ভিনিশিয়াস
ভিনিসিয়াস জুনিয়র তাঁর নিপুণ ড্রিবল এবং টপ কর্নারে নেওয়া নিখুঁত শট করে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের লড়াইয়ে ফেরান। এই গোলের পরেই ব্রাজিলকে একেবারে পরিচিত ঢঙে ফিরে আসতে দেখা যায়। তবে গোল হয়নি। তবে আধিপত্য দেখিয়েছে। আর এটারই অভাব ছিল ব্রাজিল দলে। মিডফিল্ডের জমাট ভাবটা ফেরত আসে। সুযোগও তৈরি হয়। তবে কাজের কাজ না হওয়ায়, ১ পয়েন্ট নিয়েই খুশি থাকতে হয় ব্রাজিলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল আসেনি। অফিসিয়াল পিরিয়ড স্কোরে দেখা যায় প্রথম পর্বে ১-১, দ্বিতীয় পর্বে ০-০। মরক্কো কম্প্যাক্ট ব্লকে খেলে কাউন্টার খুঁজেছে, ব্রাজিল রাফিনিয়া-ভিনিসিয়াসের গতিতে উইং ব্যবহার করলেও বোনোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ ব্যবধান গড়তে দেয়নি। আনচেলত্তি মাঝমাঠে ফ্রেশ লেগ আনলেও শেষ তৃতীয়াংশে সিদ্ধান্তের অভাবে সুযোগ নষ্ট হয়।
এই ফলাফল ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও মনে করায়। শেষ দেখায় মরক্কোই ব্রাজিলকে ২-১ হারিয়েছিল, এবং সাম্প্রতিক হেড-টু-হেডে ব্রাজিলের সামান্য এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা আবার প্রমাণ করল তারা বড় মঞ্চে ভয় পায় না।