
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, থেকে শুরু করে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড- বিশ্বের যে কোনও দেশের জন্যই ফুটবল বিশ্বকাপে অন্যতম ত্রাস জার্মানি। লং পাল্লার শটে ওস্তাদ এই টিম নিজেদের দিনে যে কোনও বড় টিমকে কাঁদিয়ে ছাড়তে পারে। তবে ২০২৬-এ তা আর হল না। বরং ২৯ জুন রাতে নিজেদের ফুটবলের সবচেয়ে অন্ধকারতম মুহূর্ত দেখল জার্মানির এই প্রজন্মের ফুটবল তারকারা। এলিমিনেটর ম্যাচে প্যারাগুয়ের সামনে পড়ে পেনাল্টিতে ৪-৩ গোলে হারল জার্মানি। ফলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল কাপ জেতার অন্যতম দাবিদার এই টিম।
জার্মানি VS প্য়ারাগুয়ের ম্যাচ কেমন হল?
এদিন ৪–২–৩–১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো বেছে নিয়েছিলেন ৪–৫–১ ফরমেশন। ম্যাচের প্রথমে মাঠ জুড়ে প্রায় দাপট দেখিয়েছে জার্মানি। কিন্তু সুযোগ পেলেই প্রতি আক্রমণে যেতে ছাড়েনি প্যারাগুয়েও। আর এই স্ট্র্যাটেজিতেই প্রথম লক্ষ্যভেদ করে তাঁরা। হাফ টাইমের আগে কর্ণার থেকে দ্রুত পরিকল্পিত আক্রমণ তৈরি করে প্যারাগুয়ে। বক্সের মধ্যে প্রায় অরক্ষিত ছিলেন হুলিয়ো এনসিসো। মাতিয়াস গালারজ়ার ভাসিয়ে দেওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি। তাঁর ড্রপ হেড বুঝতে পারেননি নয়ারও। ৪২ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই কড়া আক্রমণ শুরু করে জার্মানি। গতি বাড়িয়ে খেলতে খেলতে ৫৩ মিনিটে প্রথমবার গোলের দরজা খোলেন কাই হাভার্টজ। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বল হেডে জালে পাঠিয়ে দেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোল এই দুটিই। ৯০ মিনিটের শেষে খেলার ফলাফল ১-১ দাঁড়ানোয় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। তবে ১২০ মিনিটের মাথাতেও কোনও ফলাফল আসেনি। ফলে পেনাল্টি শুট আউটে যায় খেলা।
টাইব্রেকারে গিয়ে চমক দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। জার্মানদের জোড়া শট আটকে তিনিই এদিন প্যারাগুয়ের নায়ক বনে গিয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানির বিপক্ষে তিন দেখায় প্রথম জয় পেল প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে পাঁচবার অংশ নিয়ে এবারই প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল জার্মানি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার টাইব্রেকারে গিয়ে দ্বিতীয়বারই জয় পেল প্যারাগুয়ে।