
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি গতবারের বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার (Qatar)। এবারে সেই যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) নিজেদের জায়গা পাকা করেছে তারা। অর্থ, পরিকাঠামো সব থাকলেও প্রস্তুতির মাঝে তাড়া করে বেরিয়েছে আতঙ্ক। নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে দেশের জন্য গৌরব ছিনিয়ে আনাই ছিল লক্ষ্য। সদ্য সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র করে কাতার বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার খাতা খুলল।
স্প্যানিশ কোচ খুলেন লোপেতেগুই এক সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এরকম অতীতে অনুভব করিনি। আমরা সবসময় কান খাড়া করে রাখতাম কখন সাইরেন বাজবে। আমাকে মেসেজ করে বলা হতো বাইরে না বেরতে, নয়তো জীবনের ঝুঁকি হতে পারে। সবসময় শুনতে হতো নিরাপদ জায়গায় থাক, ভিতরে থাক, কাচের থেকে দূরে থাক। আমেরিকার ঘাঁটিতে যত বোম পড়ছে তত মনে হচ্ছে আমরা হয়তো আর বাঁচব না। আমার পরিবার বলেছিল দেশে ফিরে যেতে। কিন্তু আমি টলিনি, কারণ আমার একটা দায়িত্ব ছিল, তা হলো কাতারকে তৈরি করা। যখন বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয় তখন আমার স্ত্রী দেশে ফিরে যায়। আমি থেকে যাই, কারণ আমার কাজ ছেড়ে যেতে পারি না।’
সবথেকে বড় কথা হল, এবারের বিশ্বকাপের আগে যখন সমস্ত দেশ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে সেই সুযোগও পায়নি কাতার। আর্জেন্টিনা ও সার্বিয়ার বিরুদ্ধে কাতারের ফ্রেন্ডলি ম্যাচ বাতিল হয় পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার জন্য। সেই সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থেকে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেননি, তাঁর দলের প্লেয়ারদের মনোবলও বাড়িয়েছে।
আসলে লোপেতেগুইয়ের কাছে এটা আর পাঁচটা বিশ্বকাপের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জবাব দেওয়া। ২০১৮ সালের FIFA বিশ্বকাপের একদিন আগে স্পেন দলের কোচের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ? তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন কোচিং থেকে দূরে থাকলেও তিনি কাতারের দায়িত্ব নেন নিজেকে প্রমাণের জন্য। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে কাতার সুযোগ পেলেও একটা পয়েন্টও তুলে পারেনি আর লোপেতেগুই এ বার সেটাই করে দেখালেন।