
এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। আর সোশ্যাল মিডিয়া মানেই ঝকঝকে কন্টেন্টের প্রতিযোগিতা। ফুটবলারদেরও নিজেদের ফ্যানদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুক্ত থাকার উপায় সোশ্যাল মিডিয়া। পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে লাইক,কমেন্ট, শেয়ারের ঝড়। কিন্তু এই বঝকঝকে কন্টেন্টের ভিড়ের মধ্যে আপনি যদি এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা পারফর্মার মাইকেল ওলিসের ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইলটা দেখেন, অবাক হয়ে যাবেন।
নিয়মিতভাবে সবাই সেখানে পোস্ট করেন, স্টোরি আপলোড করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ছবি ঝকঝকে। হাই রেজোলিউশন। কিন্তু ওলিসের প্রোফাইলে গেলে আপনি চমকে উঠবেন। প্রথমত, বিশ্বকাপের আগে নিজের সব পুরনো ছবি আপাতত সরিয়ে ফেলেছেন ইনস্টাগ্রাম থেকে। বদলে মোটেই দামি ক্যামেরায় তোলা মাঠের ঝাঁ চকচকে ছবি ব্যবহার করছেন না। যে কয়েকটা ছবি তিনি পোস্ট করেছেন, প্রতিটাই টিভি থেকে তোলা ছবি। বেশিরভাগই আবছা। কাঁপা কাঁপা!
তবে এর পিছনে রয়েছে একটা অন্য গল্প। এক ফরাসি ফটোগ্রাফারের বিশ্বকাপ কভার করতে আসতে না পারার গল্প। এই মহিলা ফরাসি ফটোগ্রাফারের নাম ফ্লোরেন্স পার্নেট।
কেন এই প্রতিবাদ?
৩৪ বছরের এই ফটোগ্রাফার ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে বেশ জনপ্রিয়। তিনি ইতিমধ্যেই ইওরো, প্যারিস অলিম্পিক, ফ্রান্সের বাস্কেটবল দলের ছবি তুলেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই ফটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্বকাপ কভার করতে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'আমার মনে হয়েছিল আমেরিকায় গিয়ে কাজ করাটা বেশ সমস্যার হবে। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে। তাই আমি ঠিক করি বাড়িতে টিভিতেই ম্যাচ দেখব। আর সেখান থেকেই ছবি তুলব।'
যদিও আরেকটি সূত্র জানাচ্ছে, তাঁর ফটোগ্রাফার হিসেবে আবেদন বাতিল করেছে ফিফা। এরপরই টিভিতে ম্যাচ চলাকালীন ফোন এবং ক্যামেরার একসঙ্গে ব্যবহার করে একের পর এক আর্টিস্টিক ছবি তুলে তিনি তাক লাগিয়ে দেন। বলেন, 'আমার কাছে বিশ্বকাপ করতে যাওয়ার ছাড়পত্র নেই। তবে আমার কাছে টিভি রয়েছে, আর সবচেয়ে বড় কথা, আমার দেখতে পাওয়ার নিজের দুটো চোখ রয়েছে। সেটা কাজে লাগিয়েই ছবি তুলছি।'
টিভি থেকে তোলা হলেও, প্রতিটা ছবি যেন এক একটা গল্প বলছে। সেই ছবি চোখে পড়ে ফ্রান্সের ফুটবলার ওলিসের। তিনি ঠিক করেন, এই ফরাসি ফটোগ্রাফারের ছবি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহার করবেন। আর তাঁর সেই সিদ্ধান্ত ভাইরাল করে পার্নেটকে। এখন যে কয়েকটি ছবি তিনি আপলোড করেছেন, প্রতিটিই টিভি থেকে তোলা আবছা অথচ আর্টিস্টিক ছবি। এখন এই স্টাইলই পার্নেটের স্টাইল হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত। ওলিসে যে শুধু সবুজ মাঠে ফুল ফোটাচ্ছেন তা নয়, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় আবছা ছবি আপলোড করেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন গোটা ফুটবল বিশ্বকে। ঝাঁ চকচকে ছবিই সব সময় শেষ কথা বলে না। শেষ কথা বলে শিল্পীর দেখার চোখ।