
নেপালে ফুটবল উন্মাদনা। হরে কৃষ্ণ গানের মাঝেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সিউ (Siuuu) সেলিব্রেশনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী সংকীর্তন ও ভক্তিমূলক নৃত্যের সঙ্গে মিলে গিয়েছে রোনাল্ডোর এই আইকনিক ফুটবল সেলিব্রেশন। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যবাহী 'হরে কৃষ্ণ' সংকীর্তনের ভক্তিপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে নেপালও। বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আইকনিক 'সিউ' (Siuuu) সেলিব্রেশন গোটা বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত। ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার আবহে তৈরি হওয়া এই ভিডিওটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতির এক অনন্য কোলাজ হিসেবে ধরা দিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল ভিডিও:ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, নেপালের একটি ব্যস্ত রাস্তায় একদল হরে কৃষ্ণ ভক্ত খোল, করতাল এবং ঢোল নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নগর সংকীর্তনে মেতে উঠেছেন। পরম ভক্তিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ করছিলেন এবং নাচছিলেন। আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর এই চেনা পরিবেশের মাঝেই আচমকা এক চমকপ্রদ দৃশ্য দেখা যায়। সংকীর্তন দলের মধ্যে থাকা এক তরুণ ভক্ত, যিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের জার্সি পরে ছিলেন। তিনি আচমকাই খোল-করতালের তালের সঙ্গে সিউ সেলিব্রেশন।
ভক্তি ও স্পোর্টসম্যানশিপের মেলবন্ধন:সবচেয়ে চমৎকার বিষয় ছিল দলের বাকি সদস্যদের প্রতিক্রিয়া। সেই ভক্তকে 'সিউ' দিতে দেখে বাকি প্রবীণ ও নবীন হরে কৃষ্ণ ভক্তরা বিন্দুমাত্র বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হননি। উল্টো তারা এই আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সানন্দে গ্রহণ করেন। কীর্তনের সুরের মাঝেই দলের বাকি সদস্যরাও অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে সমস্বরে 'সিউ' ধ্বনি দিতে দিতে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন এবং রোনাল্ডোর মতো হাত দুটি দুই পাশে ছড়িয়ে মাটিতে নামেন।
ভক্তিগীতির চিরাচরিত নাচের মুদ্রা ক্ষণিকের জন্য রূপান্তরিত হয় ফুটবল মাঠের বিশ্বসেরা উদযাপনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া:ভিডিওটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট হওয়ার পরপরই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন এবং ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আনন্দ এবং উৎসবের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা বা নিয়ম হয় না। কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝেও যে এমন সরল, কৌতুকপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব, তা এই ভক্তরা দেখিয়ে দিয়েছেন। আধুনিক ফুটবলপ্রেমী প্রজন্ম এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ভাবধারার এমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সচরাচর দেখা যায় না।