
Fifa অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ জয়ের ধারা বজায় রাখল টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ম্যাচে লাওসকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যামেরুনকেও হারাল ভারতীয় খুদেরা। ফলে এই নিয়ে পরপর দুটি ম্যাচে ম্যাচ জিতে গেল ‘ব্লু কল্টস’।
রবিবার বাকুর হোভসান কমপিটিশন কমপ্লেক্সের পিচ ১বি-তে গ্রুপ কে-র দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যামেরুনকে ২-১ গোলে হারাল ভারত। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ফারেইল এনগোবোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় নীল জার্সি। তবে বিরতির ঠিক আগে, ২০ মিনিটে মহম্মদ সোহিল খানের আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় ক্যামেরুন। দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ মিনিটে আর লালরেমরুয়াতফেলার গোলে ফের এগিয়ে যায় ভারত। সেই স্কোর লাইনই ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। যদিও গোলরক্ষক জেনিত নিংথৌজাম একের পর এক দুর্দান্ত সেভ না করলে ফলাফল অন্য হতেই পারত। নিশ্চিত পেনাল্টিও সেভ করে দেয় সে।
ম্যাচ কেমন খেলা হল?
এদিন ম্যাচের প্রথম থেকেই শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করে খেলে ব্লু কোল্টস। প্রথম মিনিটে দীপক সিং আরামবামের কর্নার থেকে ক্যামেরুনের পেনাল্টি বক্সে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে এনগোবো হেড করেন, কিন্তু বল নিজের জালেই জড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে আক্রমণের চাপ বাড়ায় ক্যামেরুন। তবে ভারতীয় ফুটবলাররা দৃঢ়তার সঙ্গে ডিফেন্স সামলায়। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সময়মতো স্লাইডিং ট্যাকল করে নিজেদের লিড অক্ষুণ্ণ রাখে খুদেরা।
১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। দীপকের কিক-ইন থেকে ক্যামেরুনের ডিফেন্স প্রায় ভেদ করে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বল গোলে জড়ায়নি। রপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠেন জেনিত। ১৬ মিনিটে ক্যামেরুনের একটি ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন তিনি। এক মিনিট পরেই পেনাল্টি বক্সের ভিতর থেকে র্যান্ডি এনগোমের প্রথম শটটি আটকে দেন। ১৮ মিনিটে নামদাম মোকতারের একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে নেওয়া শটও রুখে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নতুন উদ্যমে মাঠে নামে ভারত। বিরতির সময় রোনানদেভ আহেইবামকে মাঠে নামান কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ। মাঠে নেমেই প্রভাব ফেলেন এই পরিবর্ত খেলোয়াড়। ২৭ মিনিটে মাঝমাঠে শক্তিশালী ট্যাকল করে বলের দখল নেন তিনি। এরপর বল বাড়িয়ে দেন দীপকের দিকে। দীপক মেপে নিচু ক্রস বাড়ান পেনাল্টি বক্সে। সেখানে অসাধারণ সংযম দেখিয়ে প্রথম ছোঁয়ায় বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন লালরেমরুয়াতফেলা। ফের এগিয়ে যায় ভারত।
৩১ মিনিটে পেনাল্টি পায় ক্যামেরুন। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি শট নারা মেইতেই লৌশামবামের হাতে লাগলে এই সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। তবে ৩২ মিনিটে হারুনা আবদুলায়ের পেনাল্টি আটকে দেন জেনিত। তাঁর দুর্দান্ত সেভে ভারতের লিড অক্ষুণ্ণ থাকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলিতে ঠান্ডা মাথায় খেলে নিজেদের রক্ষণভাগের সংগঠন ধরে রাখে ভারত। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে ব্লু কোল্টস।