
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচই প্রাধান্য। তাই ফিফা আশিয়ান কাপ খেলবে না ভারতীয় ফুটবল দল। সেই মতো টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার এই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন খোদ এআইএফএফ-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণন।
তিনি পিটিআই-কে বিষয়টা সম্পর্কে খোলসা করেন। সত্যনারায়ণন বলেন, 'আমরা ফিফা আশিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। কারণ, ব্রাজিল ম্যাচ এবং ফিফা আশিয়ান কাপ, দুটো একসঙ্গে খেলা সম্ভব নয়।'
মাথায় রাখতে হবে, আশিয়ান কাপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাপ। আর এই ফিফা অনুমোদিত আশিয়ান টুর্নামেন্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ ছিল ভারতের সামনে। ভারত নন-আশিয়ান আমন্ত্রিত দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিত। প্রথমে এই টুর্নামেন্ট খেলতে রাজি হয় ভারতীয় দল। সেই মতো ভারতকে ডিভিশন ১-এর গ্রুপ এ-তে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে রাখা হয়েছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা।
কিন্তু মুশকিল অন্য জায়গায়। আগামী ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে নামবে ভারতীয় দল। এই প্রীতি ম্যাচ ঘিরেই সমস্যা তৈরি হয়। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে চলেছে।
এর আগে আশিয়ান কাপে অন্য স্কোয়াড বা ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াড পাঠানোর কথা ভেবেছিল এআইএফএফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকেও সরে এসেছে ফেডারেশন। পরিবর্তে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় একাধিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের দিকে নজর দিচ্ছে তারা।
ভারত আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছে। কাবো ভার্দে ও ইরানের বিরুদ্ধে খেলার চেষ্টা চলছে। দু’টি দেশই চলতি বছরের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছে। তবে এই ম্যাচগুলি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি ভারত।
মাথায় রাখতে হবে, আশিয়ান কাপ নিয়ে ফিফার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল ভারত। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ব্রাজিল ম্যাচের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হল।
আসলে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ভারত। যার ফলে ভারতীয় দল এমনিতেই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দলের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করাও বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন ব্রাজিল ম্যাচকেই তুরুপের তাস হিসেবে দেখছে ভারত। এভাবেই আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় যত বেশি সম্ভব প্রীতি ম্যাচ খেলার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।